‘ফুপুর’ প্রভাব থেকে রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগ—জ্যেষ্ঠতা ডিঙিয়ে পদোন্নতি, বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ। ফাইল ছবি
ভুয়া পিএইচডি সনদ দেখিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ছুটিতে প্রেষণ ভোগের অভিযোগে বিভাগীয় মামলায় শাস্তি পেয়েছিলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। বিভাগীয় তদন্তে জালিয়াতি ও অসদাচরণের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি দোষ স্বীকারও করেন। কিন্তু গুরুদণ্ডের পরিবর্তে মাত্র এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার লঘুদণ্ডেই পার পেয়ে যান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য প্রয়াত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে ‘ফুপু-ভাতিজা’ সম্পর্কের সুবাদেই গুরুদণ্ড এড়ানোর সুযোগ পান খালেকুজ্জামান। আর সেই শাস্তির মাত্র তিন বছরের মধ্যেই পান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে হন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী।
এরপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় তার কথিত রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাও। আওয়ামী লীগ থেকে এবার জামায়াতঘনিষ্ঠ পরিচয়ে আবির্ভূত হওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। আর সেই নতুন রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাবেই পাঁচজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে তিনি বসেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) পদে।
এখন সেই পদ স্থায়ী বা নিয়মিত করার জন্যও তিনি জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ। ইতোমধ্যে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের বাদ দিয়ে পদোন্নতির সংক্ষিপ্ত তালিকার শীর্ষে নিজের নাম বসানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে জুলাই-সংক্রান্ত মামলার তথ্য সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি) পাঠানোর বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক আত্মীয়তায় জ্যেষ্ঠতা ডিঙিয়ে পদোন্নতি
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তালিকা ও পার্সোনাল ডাটা শিট (পিডিএস) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাকরিজীবনে সরকারি প্রেষণ ও ছুটির সুযোগে প্রায় ১১ বছর অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেছেন খালেকুজ্জামান চৌধুরী। পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হলেই তিনি দেশে ফিরেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
পোস্টের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, বিদেশে প্রেষণে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ভুয়া অফার লেটার ও জাল কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন—এমন অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার তার এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সুপারিশে গুরুদণ্ড এড়িয়ে সে যাত্রায় লঘুদণ্ডেই রক্ষা পান তিনি।

বিভাগীয় মামলার মাত্র তিন বছরের মধ্যেই সাজেদা চৌধুরীর লিখিত সুপারিশে একই বছরে দুই দফা পদোন্নতি পান খালেকুজ্জামান—এমন তথ্যও সরকারি চাকরির নথিতে পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পাঁচ মাসে দুই পদোন্নতি
সরকারি চাকরির সার্ভিস রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২২ জুলাই নিয়মিত পদোন্নতি পেয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হন খালেকুজ্জামান চৌধুরী। এর মাত্র কয়েক মাস পর ১৫ ডিসেম্বর তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই পদোন্নতিতে প্রচলিত জ্যেষ্ঠতার রীতি উপেক্ষা করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জুলাইয়ের পর বদলে গেল রাজনৈতিক পরিচয়
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খালেকুজ্জামান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানও বদলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ পরিচয়ের পরিবর্তে এবার তাকে জামায়াতঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। জামায়াতপন্থি সাবেক গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের তদবিরে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর পাঁচজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর (চলতি) দায়িত্ব পান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে তাকে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা মেট্রো জোনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
খালেকুজ্জামানের বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার তালমা গ্রামে। একই উপজেলার ফুলসুতি গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের শ্বশুরবাড়ি।
ডা. তাহেরের শ্বশুর আহম্মদ উল্লাহ চৌধুরী এবং খালেকুজ্জামানের বাবা বদিউজ্জামান চৌধুরী সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা—এমন পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডা. তাহেরের স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীকে (সুইটি) খালেকুজ্জামান ‘ফুপু’ বলে ডাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই আত্মীয়তার সূত্রই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার পদোন্নতিতে প্রভাব ফেলেছিল।
বিএনপি ক্ষমতায়—আবারও বদল ‘ঘনিষ্ঠতার’ পরিচয়?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর খালেকুজ্জামান চৌধুরী আবারও নিজের রাজনৈতিক পরিচয় বদলে ফেলেছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে নিজেকে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেন বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি।
অর্থাৎ ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক ‘আত্মীয়তার’ বলয়ও বদলেছে—এমন অভিযোগই এখন ঘুরছে গণপূর্ত অঙ্গনে।
জ্যেষ্ঠদের বাদ দিতে ‘সাজানো মামলার’ তালিকা?
প্রধান প্রকৌশলীর পদ স্থায়ী করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৬ জুলাই গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এসএসবি বৈঠকের জন্য পাঁচজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর তালিকা পাঠানো হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এই তালিকাতেই প্রশাসনিক জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
অধিদপ্তরের দাপ্তরিক জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের ও উৎফল কুমার দে। জ্যেষ্ঠতার হিসেবে তৃতীয় অবস্থানে থাকা খালেকুজ্জামান চৌধুরী কীভাবে তালিকার প্রথমে এলেন—এ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন মো. শহিদুল আলম এবং ড. মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার।
নথিপত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে জুলাই-পরবর্তী সময়ে রামপুরা থানার একটি মামলায় এসব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ মোট ৪৭ জন প্রকৌশলীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এ অভিযোগের সত্যতা ও মামলায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে বসেই ‘বদলি বাণিজ্য’?
প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৬৫ জন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাকে পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এসব আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের অভিযোগও রয়েছে।
চলতি বছরের ৩ মার্চ পৃথক প্রজ্ঞাপনে একদিনে অর্ধশতাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে গণবদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে এত বড় রদবদল কেন করা হলো—এ নিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী প্রধান প্রকৌশলীকে তলব করে ব্যাখ্যা চান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় ৫ ও ৮ মার্চ পৃথক আদেশে অধিকাংশ বদলি বাতিল করা হয়।
তবে এরপরও পর্দার আড়ালে ছোট পরিসরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বরখাস্ত কর্মকর্তার ‘অদ্ভুত’ বদলি—নথিতে জালিয়াতির ইঙ্গিত?
একটি ঘটনা আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে পুরোনো তারিখে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে দুর্নীতির দায়ে সাইফুজ্জামানকে বরখাস্ত করে। সেখানে তাকে লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত অন্য একটি আদেশে দেখা যায়, বরখাস্তের এক দিন আগে—অর্থাৎ ২ ফেব্রুয়ারি—তাকে ঢাকায় রিজার্ভে বদলি করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে—৩ ফেব্রুয়ারি বরখাস্ত হওয়া একজন কর্মকর্তাকে ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বদলি করা হলো কীভাবে? আর সেই আদেশ ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পেল কেন?
দপ্তরসংশ্লিষ্টরা এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ নথিকে জালিয়াতির সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কমিশন না পাওয়ায় টেন্ডার বাতিলের অভিযোগ
বদলি বাণিজ্যের পাশাপাশি বড় প্রকল্পের টেন্ডার পুনর্মূল্যায়নের নামেও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১, বিভাগ-৩ এবং শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২-এর অধীনে বড় অঙ্কের পাঁচটি দরপত্র কমিশনসংক্রান্ত অসন্তোষের কারণে পুনর্মূল্যায়নের জন্য ফেরত পাঠানো হয় বলে অভিযোগ।
যদিও এর পেছনে পিপিআর ২০২৫-এর ত্রুটি দেখানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন পিপিআর চালুর পর প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রকৃত কারণ ছিল নির্ধারিত কমিশন না পাওয়া—এমন অভিযোগই করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দরপত্রের নথি, মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত এবং পুনর্মূল্যায়নের কারণ স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
‘নতুন সিন্ডিকেট’ গড়ে ওঠার অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের অভিযোগ, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে সরানোর পরও অধিদপ্তরে কথিত দুর্নীতির সংস্কৃতি থামেনি।
বরং খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে নতুন একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে তাদের দাবি।
তাদের অভিযোগ, যারা আর্থিকভাবে সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে পারছেন, তারাই গুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক পদে বহাল থাকছেন।
দুদকে অভিযোগ, জমা পড়েছে নথিপত্র
খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নথি জালিয়াতি, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও ঠিকাদার সরাসরি দুদকে হাজির হয়ে দালিলিক প্রমাণ জমা দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুদকের তদন্তে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘ক্ষমতা বদলালেই তৈরি হয় নতুন আত্মীয়তা’
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে সাজেদ আকবর বলেন,
একই নির্বাচনি আসনে বাড়ি হওয়ায় তখন আম্মার কাছে অনেকে আসতেন। তারা নিজেকে ক্ষমতার কাছাকাছি রাখতে কোনো না কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করতেন। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পরে তাদের ফের নতুন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, তবে আমি তাকে (খালেকুজ্জামান চৌধুরী) চিনি না, আম্মার সঙ্গে পরিচয় ছিল কি না জানা নেই।
এক কর্মকর্তার উত্থানের নেপথ্যে আসলে কী?
ভুয়া সনদের অভিযোগে বিভাগীয় শাস্তি, এরপর দ্রুত পদোন্নতি; রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বদলে যাওয়া কথিত ঘনিষ্ঠতা; জ্যেষ্ঠতা ডিঙিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে বসা; এরপর বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ—সব মিলিয়ে মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর উত্থান নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অভিযোগগুলো কতটা সত্য, আর নথিতে উঠে আসা অসঙ্গতিগুলোর প্রকৃত ব্যাখ্যাই বা কী?
স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগ, নথি ও বাস্তবতার মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হতে পারে। আর যদি অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসা একজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠবে গুরুতর প্রশ্ন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
