নাচোল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম। ফাইল ছবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) উদ্দেশ করে বিএনপির এক নেতার দেওয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বক্তব্যে নাচোল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৩ নম্বর নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপনার মতো বহু ইউএনওকে লাথি মেরে অফিস থেকে বের করে দিতে পারে বিএনপি।
সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে নাচোলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি, ছাত্রদল ও নিয়োগবঞ্চিত সাধারণ আবেদনকারীরা। গত সোমবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে ব্যাপকসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ আবেদনকারী অংশ নেন।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়সহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে উপজেলার স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে টানা বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নাচোল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে ইউএনওকে উদ্দেশ করে শফিকুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের কথার বাইরে গেলে আপনি এক ঘণ্টাও অফিস করতে পারবেন না। বিএনপি এমন একটি দল, আপনার মতো বহু ইউএনওকে লাথি মেরে অফিস থেকে বের করে দিতে পারে।
মাঠ প্রশাসনের একজন নির্বাহী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে এমন বক্তব্যকে বেফাঁস ও দৃষ্টিকটু মন্তব্য হিসেবে দেখছেন বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী। তাদের মতে, দলীয় কর্মসূচিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হলেও সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি বা অসম্মানজনক ভাষায় বক্তব্য দেওয়া দলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের তালিকায় অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, নিয়োগে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা এবং জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এ অভিযোগে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানার অপসারণের দাবিও জানান বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে নিয়োগবঞ্চিতরা বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ইউএনও কার্যালয়, সমাজসেবা কার্যালয়, শিক্ষা অফিস ও এলজিইডিসহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের গেটে তালা লাগিয়ে দেন।
সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আমানুল্লা আল মাসুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুরুল হোদা, কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মেহরাব জাকারিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মুকুল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আজিম এবং ছাত্রদল নেতা নাহিদ ও রোমিওসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস বলেন, যাচাই-বাছাই এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই ফলাফল দেওয়া হয়। এরপরও বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারি দপ্তরগুলোতে বিক্ষোভ করে তালা লাগিয়ে দেন।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীন দেশে যে যার মতো বক্তব্য দিচ্ছে, দাবি-দাওয়া করছে—আমাদের আর করার কী আছে।
ইউএনও আরও জানান, বিক্ষোভের পর ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে ভাইরাল বক্তব্যের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলা জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।
ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ, সরকারি দপ্তরে তালা এবং বিএনপি নেতার ইউএনওকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্য—সব মিলিয়ে নাচোলে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
