সরকারি গাড়ি ও মাসিক ৫০ হাজার টাকা মেইনটেনেন্স সুবিধা—দুই-ই ভোগের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নীতিমালা থাকলেও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে সরকারি গাড়ি ও নগদ মেইনটেনেন্স সুবিধা ভোগের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের দ্বৈত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটি সরকারি গাড়ির সুবিধা পেতেন ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান। একই সঙ্গে ওই গাড়ির জ্বালানি, চালকের বেতন ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে প্রতি মাসে নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা মেইনটেনেন্স সুবিধা হিসেবে উত্তোলন করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের মূল প্রশ্ন এখানেই। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, গাড়ি ব্যবহারের মেইনটেনেন্স সুবিধা নগদায়ন করে নিলে অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ থাকার কথা নয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নগদ সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিয়মিতভাবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিজস্ব গাড়ি ও সরকারি জ্বালানি ব্যবহার করেছেন।
ফলে একদিকে সরকারি কোষাগার থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ, অন্যদিকে অধিদপ্তরের গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগ—দুই সুবিধা একসঙ্গে ভোগের বিষয়টি এখন প্রশ্নের মুখে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি ‘গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা-২০২০’-এর পরিপন্থী হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে।
গাড়ি সুবিধার অভিযোগের বাইরে আরও নানা প্রশ্ন
মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে শুধু গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগই নয়, অধিদপ্তরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ প্রকল্প, কেনাকাটা এবং প্রশাসনিক বদলি-পদায়ন নিয়েও স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার এবং নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একটি কথিত নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।
অবমুক্ত করে জনপ্রশাসনে ন্যস্ত
প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এসব অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়টি পৌঁছানোর পর সম্প্রতি তাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে অবমুক্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, সরকারি গাড়ি ও নগদ মেইনটেনেন্স সুবিধা একই সঙ্গে গ্রহণের অভিযোগসহ তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্ত ও সরকারি অডিটের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি অর্থের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
সাবেক ডিজির বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে ইচ্ছুক নন বলে জানান।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সরকারি হিসাব ও গাড়ি ব্যবহারের রেকর্ড যাচাই করে যথাযথ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
