নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা ভেস্তে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সংগঠনটির ১৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পূর্বধলা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার ৯ নম্বর খলিশাউড় ইউনিয়নের পাবই এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে শ্যামগঞ্জ-জারিয়া সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সংগঠনটির জেলা সভাপতি পদপ্রার্থী হাসিব ইবনে হান্নান রিদমের নেতৃত্বে ভোরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন নেতাকর্মী পাবই এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা পাবই থেকে শ্যামগঞ্জগামী পাকা সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা করেন।
বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় গ্রামপুলিশ দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিছিলকারীদের ধাওয়া করে। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে ১১ জনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতাররা হলেন—আটপাড়া উপজেলার মারুফ হোসেন মুন্না (২০), সিয়াম আহমেদ (১৮), শিপন মিয়া (১৮) ও ইবনে শফি সামি দ্বীপ (১৮)। পূর্বধলা উপজেলার জাহিদুল হাসান ফয়সাল (২৫), মো. নাঈম ইসলাম (২৮), লোকমান আহম্মেদ (২৬), ফজলে এলাহী ময়না (২৯), মাহফুজ আকম শরীফ (২৬), শাওন শেখ (১৬) ও ইমরান (১৫)।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল পৃথক অভিযান চালায়। অভিযানে আটপাড়া উপজেলার সুখারি এলাকার আরিফ জাহান বিজয় (১৯) ও শ্রীরামপাশা এলাকার রুদ্র মিয়া (১৯) গ্রেফতার হন। পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকেও আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ নিয়ে পুলিশ ও ডিবির পৃথক অভিযানে মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় পূর্বধলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ তাইজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, মিছিলের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।
পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
