মঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি, সামনে সাংগঠনিক পরীক্ষার কঠিন অধ্যায়

স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দুই দশক পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বিএনপি | দল-সরকারের দূরত্ব বজায় রাখা, তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণ ও সংগঠন পুনর্গঠনই বড় চ্যালেঞ্জ। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ১ সেপ্টেম্বর। ৪৮ বছরে এসে দলটি এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যার সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় দলের অবস্থানে।

১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি এরই মধ্যে কয়েক দফা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে, আবার ক্ষমতাচ্যুতও হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থেকে আন্দোলন করেছে, মোকাবিলা করেছে রাজনৈতিক সংকট ও নানা প্রতিকূলতা। তবে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিঃসন্দেহে ভিন্ন বাস্তবতায়। প্রায় দুই দশক পর বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায়। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে এটিই বিএনপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

তিন পর্যায়ে বদলেছে বিএনপির নেতৃত্ব

গত ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপির নেতৃত্বের তিনটি প্রধান পর্যায় স্পষ্ট।

প্রথম পর্যায় ছিল প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে। এ সময় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি তৈরি করে বিএনপি।

দ্বিতীয় পর্যায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের। তাঁর সময়ে বিএনপি নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে এবং তাঁকে কেন্দ্র করে একটি গণদলে রূপান্তরিত হয়। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও বিএনপি নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে।

তৃতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বের পর তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান হয়েছেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

দলের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোয় এই পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা। তাঁদের মতে, একদিকে দল ও সরকারে তারেক রহমানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা, অন্যদিকে প্রবীণ নেতৃত্বের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়া—এই সমন্বয় আগামী দিনের বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

জয় এসেছে, এবার পরীক্ষা সংগঠনের

২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির ২০৯ আসনে জয় শুধু একটি নির্বাচনী বিজয় নয়; বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারায় এটি বড় ধরনের পালাবদল।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার মধ্যেই বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বিএনপির অতীতের অর্জন নয়; বরং ক্ষমতায় ফিরে দলটি নিজেকে কীভাবে প্রমাণ করবে।

রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন এখন বিএনপি সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দলীয় রাজনীতি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও সচল রাখা জরুরি।

দল ও সরকারকে আলাদা রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে এখন আলোচনা রয়েছে—সরকার পরিচালনার ব্যস্ততায় দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে কি না।

আওয়ামী লীগের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মাঠে না থাকাও এর একটি কারণ বলে মনে করেন দলের কেউ কেউ। তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মীর অভিযোগ, সাংগঠনিক কার্যক্রম এখন অনেকটা মন্ত্রী-এমপিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। সেখানে দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চেয়ে স্থানীয় এমপির পছন্দ-অপছন্দ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিষয়টি মানতে রাজি নন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তাঁর ভাষ্য, যারা দলের নেতা, তাঁদের অনেকেই এখন এমপি-মন্ত্রী। স্থানীয় সরকারে প্রশাসকের দায়িত্বেও রয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক।

তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই বলছেন—সরকারের কাজে দলের সহযোগিতা প্রয়োজন, কিন্তু দল যেন সরকারের ভেতরে ঢুকে না যায়।

গত ৪ জুলাই থেকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা জেলা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠক করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

এসব বৈঠকে তৃণমূলে দলকে শক্তিশালী করা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির অনেক নেতার ধারণা, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সংগঠনে যে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বও সেটি উপলব্ধি করছেন।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে সাংগঠনিক স্থবিরতা

সরকার গঠনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। এ সময়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা হয়েছে চারটি।

দেশজুড়ে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি এবং ৩১টিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে মেয়াদ রয়েছে মাত্র আট জেলা ও মহানগর কমিটির। বাকি ৭২টির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। স্থগিত রয়েছে শেরপুর জেলা কমিটি।

সাংগঠনিক গতি বাড়াতে গত ১৫ আগস্ট দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চারজনকে পদায়ন করা হয়। এ নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে ১১টি। এসব সংগঠনের সব কটির কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ছাত্রদলের বর্তমান কমিটিকে এক মাস আগে বিদায় জানানো হলেও নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও আটকে আছে।

জাতীয় কাউন্সিল নিয়েও অনিশ্চয়তা

বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দুই বছর মেয়াদি ওই কেন্দ্রীয় কমিটি ইতোমধ্যে ১০ বছর পার করলেও নতুন কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি।

চলতি বছরের মধ্যে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার ঘোষণা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এ নিয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই। জেলা ও মহানগরের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন থানা ও উপজেলা কমিটিরও মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হলে সেটিকে কেন্দ্র করে জেলা পর্যায়ের কাউন্সিলগুলো সম্পন্ন করার কাজ শুরু হবে। যেসব জেলা, থানা ও ইউনিটে কাউন্সিল বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত শেষ করা হবে। পাশাপাশি কর্মিসভা ও ওয়ার্কিং মিটিংয়ের মতো কার্যক্রমও চলবে।

তৃণমূলের প্রত্যাশা বনাম ক্ষমতার বাস্তবতা

বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের অন্যতম বড় শক্তি ছিল তৃণমূলের সংগঠন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই সংগঠন আবারও ভোটের মাঠে নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।

তবে সরকার পরিচালনার সময় তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে নতুন সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের প্রত্যাশা। ২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণ ভোটাররা আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় ও প্রত্যাশী। তাদের চাওয়া শুধু দলীয় পরিচয়ের রাজনীতি নয়; চাকরি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো বিষয়ও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

এই বাস্তবতায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কিন্তু তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দলের ভেতরে নবাগত ও ‘হাইব্রিড’ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের ঘটনাও ঘটছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দল ক্ষমতায় গেলে সব সময় কিছু মানুষ ফায়দা লুটতে চায়। তাদের কারণে দলের ত্যাগী নেতারা অনেক সময় মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হন।

১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় আসে। এই দীর্ঘ আন্দোলনে জেল-জুলুম, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বহু নেতাকর্মী। তখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল—‘মিছিলের শেষ কর্মীকেও মূল্যায়ন করা হবে।’

তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, এখন সেই মূল্যায়নে ত্যাগী নেতাকর্মীরাই পিছিয়ে পড়ছেন।

তবে এ অভিযোগ মানতে নারাজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দল সরকারে গেলে সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। এর অর্থ এই নয় যে দল সরকারে ঢুকে গেছে। তবে সরকার গঠনের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দ্রুততম সময়ে ঢেলে সাজানো সম্ভব হয়নি—এটি সত্য। এখন অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন এবং দলের জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

‘জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি’

জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবার বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

তাঁর ভাষ্য, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়।

বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দলের প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দলের সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।

বিএনপির প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক, রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

তাঁর মতে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব বিএনপিকে দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল।

৫ দিনের কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের কর্মসূচি।

আজ সকালে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাঁর সঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম দিনে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ দেশের সব জেলা কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, সারা দেশে বৃক্ষরোপণ এবং মৎস্য অবমুক্তকরণ।

এর পাশাপাশি দেশের জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং দলের বিভিন্ন ইউনিট নিজ উদ্যোগে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

সামনে যে প্রশ্নগুলো

৪৮ বছরে বিএনপির রাজনৈতিক উত্থান-পতনের ইতিহাস দীর্ঘ। এবার দলটি ক্ষমতায় এসেছে দীর্ঘ অপেক্ষার পর। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরই শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়—রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি সংগঠনকে কতটা শক্তিশালী ও সক্রিয় রাখা যায়, ত্যাগীদের কতটা মূল্যায়ন করা যায় এবং দল ও সরকারকে কতটা আলাদা রাখা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তাই বিএনপির জন্য শুধু অতীতের সাফল্য উদযাপনের দিন নয়; বরং এটি ক্ষমতায় বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য এক বড় পরীক্ষার সূচনাবিন্দু।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।