শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লটারিতে ঢাকার বাইরে বদলি, ফেসবুকে আন্দোলনের হুমকি—৪ দিনের মাথায় ঢাকায় ফিরলেন দুই প্রকৌশলী নেতা

স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গণপূর্তে ‘লটারি’ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, বিশেষ আদেশে রায়হান-আনিসুজ্জামানকে পুনরায় ঢাকায় সংযুক্তি। ফাইল ছবি

গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি-বাণিজ্য ও তদবিরের সংস্কৃতি বন্ধ করে স্বচ্ছতা আনতে শুরু হয়েছিল লটারির মাধ্যমে গণ-বদলি। উদ্দেশ্য ছিল—কে কোথায় যাবেন, তা নির্ধারণ হবে ভাগ্যের লটারিতে; ব্যক্তিগত প্রভাব, তদবির কিংবা সংগঠনের চাপ সেখানে কোনো ভূমিকা রাখবে না।

কিন্তু সেই লটারি পদ্ধতিতেই ঢাকার বাইরে বদলি হওয়ার পর মাত্র চার দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ রায়হান মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আনিসুজ্জামানকে আবারও ঢাকায় ফিরিয়ে এনে সংযুক্ত করার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশাসনিক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—লটারিতে বদলি, এরপর আপত্তি, আন্দোলনের হুমকি এবং শেষ পর্যন্ত বিশেষ আদেশে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন—এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে আসলে কী বার্তা গেল?

লটারিতে ঢাকার বাইরে

গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিনের বদলি-বাণিজ্য ও তদবিরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি লটারির মাধ্যমে গণ-বদলি কার্যক্রম শুরু করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।

এই প্রক্রিয়ায় পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ রায়হান মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আনিসুজ্জামানের কর্মস্থলও ঢাকার বাইরে নির্ধারিত হয়।

রায়হান মিয়াকে চট্টগ্রাম গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩-এ বদলি করা হয়। অন্যদিকে আনিসুজ্জামানকেও ঢাকার বাইরে পদায়ন করা হয়।

লটারির ফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

বদলির পর ফেসবুকে ‘আন্দোলনের’ বার্তা

লটারিতে ঢাকার বাইরে বদলি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি নতুন মোড় নেয়।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মোহাম্মদ রায়হান মিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বদলি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আন্দোলনের প্রস্তুতির কথা জানান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রশ্ন ওঠে—লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত বদলির বিরুদ্ধে একজন সংগঠন নেতার প্রকাশ্য আন্দোলনের ঘোষণা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?

মাত্র চার দিন পরই ‘বিশেষ আদেশ’

সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে এরপরের ঘটনাটিই ঘিরে।

ফেসবুকে আন্দোলনের বার্তা দেওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায়, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তথ্যানুযায়ী, এক বিশেষ আদেশে মোহাম্মদ রায়হান মিয়া ও মুহাম্মদ আনিসুজ্জামানকে পুনরায় ঢাকায় ফিরিয়ে এনে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অর্থাৎ, লটারির মাধ্যমে ঢাকার বাইরে যাওয়া—আপত্তি ও আন্দোলনের বার্তা—তারপর মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন।

এই ঘটনাপ্রবাহই এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তাহলে লটারির প্রয়োজন কী?

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের একটি অংশ বলছেন, তদবির ও বদলি-বাণিজ্য বন্ধ করতেই যদি লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়ে থাকে, তাহলে লটারির ফল প্রকাশের পর প্রভাবশালী সংগঠন নেতাদের আপত্তির মুখে দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলে পুরো ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হবে।

তাদের প্রশ্ন—লটারিতে যদি বদলি নির্ধারিত হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত থেকে ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ কার জন্য এবং কোন প্রক্রিয়ায়?

সাধারণ প্রকৌশলীদের অভিযোগ, লটারির মূল উদ্দেশ্য ছিল সবাইকে একই নিয়মের আওতায় আনা। কিন্তু লটারির ফল মেনে নেওয়ার পরিবর্তে চাপ, তদবির কিংবা আন্দোলনের মাধ্যমে কেউ যদি কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে লটারি ব্যবস্থার প্রতি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আস্থা কতটা থাকবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

‘ঢাকা থেকে ঢাকায়’ পোস্টিং নিয়ে ক্ষোভ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে এ ঘটনায় ক্ষোভও তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাদের ভাষ্য, বদলি-বাণিজ্য ও তদবির বন্ধের জন্য যখন নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, তখন সাধারণ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ হলেও প্রভাবশালী কেউ বিশেষ সুবিধা পেলে পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

রায়হান মিয়ার সেই ফেসবুক পোস্ট

এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর রাতে পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি রায়হান মিয়া ফেসবুকে লেখেন, ‘গণপূর্ত অধিদপ্তরে কর্মরত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা সকলেই আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

তাদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাকেন্দ্রিক পদায়নকে ঘিরে যে অসন্তোষ ছিল, লটারির উদ্যোগে সেটি কমার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বিশেষ আদেশে ঢাকায় ফেরার ঘটনা সেই প্রত্যাশায় ধাক্কা দিয়েছে।

প্রশাসনিক মহলে নতুন প্রশ্ন

ঘটনাটি নিয়ে এখন প্রশাসনিক মহলে কয়েকটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—

লটারির সিদ্ধান্ত কি চূড়ান্ত ছিল?

যদি চূড়ান্ত হয়, তাহলে চার দিনের মধ্যে কেন পরিবর্তন?

আন্দোলনের ঘোষণার সঙ্গে বিশেষ আদেশের সময়ের এত ঘনিষ্ঠতা কি নিছক কাকতালীয়?

নাকি বিশেষ কোনো প্রশাসনিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?

অবশ্য সংশ্লিষ্ট দুই প্রকৌশলী নেতার বক্তব্য, তাদের বদলি ও পুনরায় সংযুক্তির প্রশাসনিক কারণ এবং বিশেষ আদেশের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জানা গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

তবে এরই মধ্যে ঘটনাটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের লটারি-ভিত্তিক বদলি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা এবং সবার জন্য সমান নিয়ম প্রয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

লটারির মাধ্যমে শুরু হওয়া বদলি প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত যদি ‘বিশেষ আদেশে’ বদলে যায়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—গণপূর্তে বদলি নির্ধারণ করছে লটারি, নাকি শেষ মুহূর্তের প্রভাব ও তদবির?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।