শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিয়ম ভেঙে পছন্দের কর্মকর্তাদের অডিটের দায়িত্ব,তদন্তের মুখে হিসাব নিয়ন্ত্রক মাশুক বিল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই দায়িত্ব বণ্টন, এক কর্মকর্তাকে একাধিক জেলার অডিটে পাঠানোর অভিযোগ—বদলি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগও তদন্তে। ফাইল ছবি

পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার অডিট করিয়েছেন তিনি। দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে মানা হয়নি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের বিধান। এমনকি একাধিক জেলার অডিটের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে একই কর্মকর্তাকে। পাশাপাশি নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অডিটে পাঠানো এবং বিধিবহির্ভূত বদলির অভিযোগও উঠেছে হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) দপ্তরের হিসাব নিয়ন্ত্রক মো. মাশুক বিল্লাহ আরেফ খানের বিরুদ্ধে।

শুধু দায়িত্ব বণ্টনেই নয়, কোনো কোনো কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ফলে অভিযোগের পর এবার তদন্তের মুখে পড়েছেন হিসাব নিয়ন্ত্রক মাশুক বিল্লাহ।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আখতার হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার আগে কোনো ধরনের মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

অডিটে নিয়মের ব্যত্যয়

নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্ব পালন করার কথা তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এক ধাপ ওপরের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের দিয়ে এসব অডিটের দায়িত্ব পালন করানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির কোনো কর্মকর্তাকে নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে অন্য কোনো কাজে পাঠাতে হলে মন্ত্রণালয়ের মৌখিক বা লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

একই কর্মকর্তার হাতে একাধিক জেলার অডিট

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৫ মে ঢাকা বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) আবুল কাশেমকে একটি অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগেও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অডিটের দায়িত্ব তার ওপর দেওয়া হয়েছিল।

একইভাবে ময়মনসিংহ বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে গত জুনে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্বও পান তিনি।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম উত্তর বা চট্টগ্রাম দক্ষিণের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব না দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) দিদারুল আলম পাটোয়ারীকে তিন পার্বত্য জেলার অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, নির্দিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে কেন একই কর্মকর্তাদের বারবার অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হলো? আর এসব দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনই বা নেওয়া হয়নি কেন—তদন্তে তারও উত্তর খোঁজা হবে।

বদলি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ

মাশুক বিল্লাহর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের বিধিবহির্ভূত বদলির অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো বলছে, কিছু কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অন্য জেলায় বদলি এবং মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন। তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বের করবে।

যেসব নথি খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি

তদন্ত কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর প্রতিটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। অডিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সফরসূচি, টিএ/ডিএ বিল, ভাউচার, অনুমোদনপত্র, অডিট রিপোর্ট, দায়িত্ব বণ্টনের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবের নথি মিলিয়ে দেখা হবে।

বিশেষ করে একই কর্মকর্তা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জেলার অডিটের দায়িত্ব পেয়েছেন কি না, পেয়ে থাকলে তার সফর ব্যয়, সফরের সময়কাল, অডিটের ফলাফল এবং দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হবে।

রোববার শুনানিতে মাশুক বিল্লাহ

তদন্তের অংশ হিসেবে আগামী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির সামনে মো. মাশুক বিল্লাহ আরেফ খানের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সামগ্রিক অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মাশুক বিল্লাহ এ প্রতিবেদককে দাবি করেন, তিনি আগের নিয়ম অনুসরণ করেই কাজ করেছেন। তিনি বলেন, অতীতে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে প্রায় দেড় বছর ধরে এ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা তার অজ্ঞতার কারণে হতে পারে।

এখন তদন্ত কমিটির শুনানি ও নথিপত্র যাচাইয়ের পরই স্পষ্ট হবে—অডিটের দায়িত্ব বণ্টনে নিয়মের ব্যত্যয় কতটা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তি কতটুকু এবং বদলি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না।

তদন্ত প্রতিবেদনেই এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।