ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জ শহরে বিদ্যুতের নতুন সংযোগ স্থাপনে নির্ধারিত সরকারি ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার এক গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সময় নাজমা আক্তার নামে ওই অফিস সহায়ক হাতেনাতে ধরা পড়েন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিডিবি কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন ইমন বিদ্যুতের নতুন সংযোগের সরকারি ফি জমা দিতে পিডিবি কার্যালয়ে যান। নির্ধারিত সরকারি ফি প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক নাজমা তাঁর কাছ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নেন। এতে নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত ২ হাজার ৯০০ টাকা আদায় করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রাহক মোফাজ্জল হোসেন ইমন অতিরিক্ত নেওয়া টাকা কমানোর অনুরোধ করছেন। তবে তাঁর অনুরোধে সাড়া দেননি নাজমা।
ঘটনাটি জানাজানি হলে কয়েকজন গ্রাহক বিষয়টি পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর মুর্শেদের নজরে আনেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক নাজমা গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেন। একই সঙ্গে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মোফাজ্জল হোসেন ইমন বলেন, ‘হবিগঞ্জ পিডিবি অফিসে হয়রানি ও ঘুষ দাবি নিত্যদিনের ঘটনা। নতুন সংযোগের ফি ১ হাজার ৬০০ টাকা হলেও যার কাছ থেকে যত খুশি আদায় করা হচ্ছে। আমি ভিডিও ধারণ করায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘হবিগঞ্জ পিডিবি কার্যালয় অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। টাকা ছাড়া এখানে কোনো সেবা পাওয়া যায় না।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর মুর্শেদ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
