শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় গুলিতে বিএনপির কর্মী জাহিদ হোসেন রাব্বী নিহতের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়েসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালতে রাব্বীর মামা নাঈম কলিমুল্লাহ সরকার এ মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিপন মিয়া।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, হাসানুল হক ইনু, আসাদুজ্জামান নূর, সাবের হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, রাশেদ খান মেনন, শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ আরও অনেকে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারাও আসামি
মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক চার আইজিপি—এ কে এম শহীদুল হক, বেনজীর আহমেদ, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এ ছাড়া এনটিএমসির সাবেক ডিজি জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও হাবিবুর রহমান, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন-অর-রশীদ, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং আব্দুল কাহার আকন্দকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
যেভাবে গুলিবিদ্ধ হন রাব্বী
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জাহিদ হোসেন রাব্বী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পেশায় তিনি ফটোগ্রাফার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন রাব্বী। ওই দিন দুপুর ২টার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন দিতে আদালতের নির্দেশের পর এখন তদন্তের অগ্রগতি ও প্রতিবেদনের দিকে নজর থাকবে।
