কুমারখালী পৌরসভার এলংগী এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বেসরকারি বাংলা টিভির কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও খোকসা প্রতিনিধি এবং কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে কুমারখালী পৌরসভার এলংগী এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভকারীরা কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতারের কাছে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি দেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সবুজ, সাংবাদিক উল্লাসের দুলাইভাই মুরাদ জোয়ার্দার, প্রতিবেশী বাবলু বিশ্বাস, কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস, স্থানীয় শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম শোভন, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেনসহ তাদের সহযোগীরা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সরকারি সড়ক নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সাংবাদিক উল্লাস ওই নির্মাণকাজে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।
বক্তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এর আগে, গত শনিবার দুপুরে কুমারখালী পৌরসভার কালিবাড়ী মন্দিরের সামনে হামলার শিকার হন সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস। ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন, পিএস পরিচয়দানকারী মারুফ হোসেন, দেহরক্ষী পরিচয়কারী রুহুল আমিনসহ ১১ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা আইনে মামলা করেন।
মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত প্রধান আসামি রুহুল আমিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে আগেই কাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপরও ঠিকাদারের লোকজন কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। ওই কাজের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যাচেষ্টা আইনে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
