ফাইল ছবি
দেশে হাম পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫ জনে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বুলেটিনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই রোগীর মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের এবং অপরজন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে হামের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য প্রকাশ শুরু হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে ১০১ জন এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ৯৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া সিলেটে ১৬৯, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৮, চট্টগ্রামে ৭৬, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪১ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে।
রোগী ভর্তির চিত্রে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ২৫৭ জন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ১ হাজার ১৭৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকায় ৩৬৫ জন এবং চট্টগ্রামে ২৫০ জন রয়েছেন। এছাড়া সিলেটে ১৬৮, বরিশাল ও খুলনায় ১২৩ জন করে, ময়মনসিংহে ৭৫, রাজশাহীতে ২৭ এবং রংপুরে ১৫ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৮০ জনে। এদের মধ্যে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫১০ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ৯২ জন। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় ২০ হাজার ৭৩৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে আসা সব রোগী এবং মাঠপর্যায়ে থাকা অনেকেরই পরীক্ষা না হওয়ায় প্রকৃতপক্ষে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি তথ্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি হতে পারে।
