বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রংপুর গণপূর্তে দুর্নীতির অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মামলা-অভিযোগের পরও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই। প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ। ঠিকাদারদের বৈষম্য ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর দিকে অভিযোগের তীর। ফাইল ফটো

রংপুর গণপূর্ত বিভাগ ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি এবং ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একের পর এক অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার, সাংবাদিক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

এরই মধ্যে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে হামলার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর উঠেছে গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের দিকেও।

অভিযোগকারীদের দাবি, গণপূর্ত বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের একটি অংশের মধ্যে এমন একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে, যার কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের পর অভিযোগ, ব্যবস্থা কোথায়?

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সারাদেশেই দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। রংপুরেও সাংবাদিকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও পেশাগত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

একই সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, গণপূর্ত বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের কারণে অনিয়মের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু সাংবাদিক সংবাদ সম্মেলন বা বিজ্ঞাপনের কথা বলে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ অভিযোগ

রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বিরুদ্ধে এক নারী কর্মকর্তাকে ৭ লাখ টাকার একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগটির প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এ অভিযোগের পক্ষে চেক বা লেনদেনসংক্রান্ত কোনো নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমে ‘একই জায়গায় বারবার গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয় বলে জানা গেছে।

রংপুরের সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে করা ওই আবেদনে তামিম ইকবাল, আতিকুর রহমান আতিক, ফরিদা, আরমান, আব্দুর রশীদ মিয়া, সুজন মিয়া ও আলমগীরসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের দাবি, অভিযোগ দাখিলের প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সংবাদ প্রকাশে বাধা, সাংবাদিককে হামলার চেষ্টা!

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অধ্যায়টি ঘটে গত ১৯ আগস্ট ২০২৬। ওই দিন গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কার্যালয়ে সাংবাদিক আতিকুর রহমান আতিক গেলে ঠিকাদার আবু বকর সিদ্দিক মিঠু তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আতিকুর রহমানের অভিযোগ, এ সময় তাকে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এর আগে একই ঠিকাদার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সে সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, ফেরদৌসি আক্তার এবং সাংবাদিক ও এনসিপি নেতা রুস্তম আলী সরকার ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর সাংবাদিক আতিকুর রহমান আতিক রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

১৫০ কোটি টাকার নভোথিয়েটার প্রকল্পেও অভিযোগ

রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

অভিযোগ রয়েছে, হাজীরহাটে নভোথিয়েটারের প্রায় ১৫০ কোটি টাকার কাজে অনিয়ম হয়েছে। এ ছাড়া নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ডেকোরেশন বাবদ প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ টেন্ডার ছাড়াই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার মিঠু চক্রের বিরুদ্ধে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বৈদ্যুতিক, সাউন্ড সিস্টেম, এসি সরবরাহ ও সিভিল কাজসহ বিটা প্রকল্পের প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রায় ৫০ কোটি টাকার কাজ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন টেন্ডারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের সমন্বয়ে অনিয়ম করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছয় বছর একই দপ্তরে, প্রশ্নের মুখে পদায়ন

নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলম ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত একই দপ্তরে কীভাবে কর্মরত রয়েছেন এবং এর মধ্যে কীভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন—এ প্রশ্নও তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তাদের অভিযোগ, নিজস্ব পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে টেন্ডার ছাড়াই বিভিন্ন কাজ করানো হয়েছে। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাফিউল মন্ডলের বিরুদ্ধেও টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চললেও অনেক প্রকল্পে যথাযথ সাইনবোর্ড না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে প্রকল্পের ব্যয়, ঠিকাদার ও কাজের সময়সীমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রিজার্ভার নির্মাণেও অনিয়মের অভিযোগ

রংপুর মেডিকেল কলেজের পেছনে রিজার্ভার নির্মাণকাজ নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ।

অভিযোগকারীদের দাবি, কাজ যথাযথভাবে না করায় পাশের ভবন ও আশপাশের রাস্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রকল্পের জন্য খনন করা মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, পুরোনো ইট ব্যবহার এবং নির্ধারিতসংখ্যক ট্যাংক স্থাপন না করার অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রকল্পের কাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া ২০২০-২১ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজিয়া সুলতানা নামে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অডিটের কথা বলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে এক ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

ঠিকাদারদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ

রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, কাজের ভাগ-বাটোয়ারা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনৈতিক অর্থ দাবি করা হয়। ই-জিপি ও ওটিএম পদ্ধতিতে ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী—বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহারিয়া আরেফিনের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন রংপুরে কর্মরত থাকার সুযোগে ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, আরএফকিউ ও কোটেশনের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের বিভিন্ন কাজ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অল্প সময়ে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধির অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি প্রকাশ্যে আসেনি।

এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। পরে বদলি হয়ে আবার রংপুরে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

২০০ কোটি টাকার ক্যান্সার হাসপাতালের কাজেও ধীরগতি

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যান্সার হাসপাতালের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকলেও এখনো শেষ হয়নি।

কাজটি কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ক্যান্সার রোগী ও সচেতন নাগরিকরা।

এ ছাড়া জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন পাঁচতলা রোগ নির্ণয়কেন্দ্রের কাজও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতাল পরিচালক বলেন, তার জানা মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প পরিচালক রংপুরে আসেননি। এর কারণও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

রংপুর গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি, ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈষম্য এবং সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ ঘিরে এখন নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।

ভুক্তভোগী ঠিকাদার, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে না দেখে সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্টদেরও তা স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি।

নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য

অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি দাবি করেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মিজানুর রহমানকে অর্থ দিতে হয়। এ কারণে কাজ শেষ করতে তাকে অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা করতে হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

সব মিলিয়ে রংপুর গণপূর্ত বিভাগে ওঠা অভিযোগগুলো এখন তদন্তের অপেক্ষায়। বিশেষ করে একজন সাংবাদিককে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে হুমকি ও হামলার চেষ্টার অভিযোগটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নকেও সামনে এনেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।