আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এক দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম। তবে তদন্তের স্বার্থে সেই তথ্য কী, তা জানায়নি পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে এ তথ্য এসেছে।
মঙ্গলবার রিমান্ড শেষে মাকছুদা ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আবেদনে তিনি মামলার তদন্তে সহায়ক হতে পারে—এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
আবেদনে ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
তবে মাকছুদা ইসলাম রিমান্ডে ঠিক কী তথ্য দিয়েছেন, তা জানাননি তদন্ত কর্মকর্তা। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না।
মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদনের ওপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত দিকে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মামলার বাদী মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, ‘তারা সবাই মিলে নির্যাতন করে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। বিশেষ করে ওবায়দুর রহমান ক্রিমিনাল। ও-ই মূল নায়ক। সবকিছু করেছে। আমি ওবায়দুরের ফাঁসি চাই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু করেছে, সবকিছু ঘটিয়েছে। আমাদের পুরো পরিবার তছনছ করে দিয়েছে।’
তবে এগুলো মামলার বাদীর অভিযোগ; অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
