ফ্রিল্যান্সিং-এআই প্রশিক্ষণে দক্ষ হবে যুবসমাজ, প্রত্যেক উপজেলায় কম্পিউটার ল্যাব ও স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা। ছবি: সমতল মাতৃভূমি
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় সরকার। যুবসমাজকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলে ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে চায়। বিগত স্বৈরাচার সরকার ১৭ বছর শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তেমন কিছু করেনি। বর্তমান সরকার প্রত্যেকটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে যুবকরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের ৮ম ব্যাচ এবং ‘এআই প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের ২য় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, “ডিভাইসের হাত থেকে আমাদের সন্তানদের দূরে রাখতে চাই।” এ লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে খেলাধুলা বিষয়ক একটি বই সংযোজন করে তা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। খেলাধুলার প্রতি শিশু-কিশোরদের আগ্রহ তৈরি করে সমাজব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করে তাদের জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাও দেন তিনি।
ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহাবুব উল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মোতাহার হোসেন, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শেখ মোঃ জোনায়েদ হোসেন, ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর, ভোলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওসারসহ সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্য থেকেও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। বক্তব্য দেন যুব ফ্রিল্যান্সিং ১ম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী জিনান মাহামুদ, এআই প্রশিক্ষণার্থী ফাতেমা বেগম মীম এবং ৮ম ব্যাচের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণার্থী ফারজানা শিমু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব রাইসুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক হুমাইউন কবির সোপানসহ জেলা যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠান শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের ৮ম ব্যাচ এবং ‘এআই প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের ২য় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে প্রকল্পের ছয়জন দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীর হাতে একটি করে ল্যাপটপ তুলে দেন তিনি।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্ভাবিত একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন।
উল্লেখ্য, একদিনের সফরে বুধবার রাতে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে ভোলার উদ্দেশে রওনা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় তিনি ভোলায় পৌঁছান।
