নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকের পথরোধ করে টাকা দাবি, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রহিছ মিয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জাতীয় দৈনিক ‘শেষ সংবাদ’-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান আলী ছোবান।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে ঝানজাইল বাজারে কাকৈরগড়া ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর পাশে প্রধান সড়কে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন আলী ছোবান। এ সময় রহিছ মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর গতিরোধ করেন। তাঁদের কয়েকজনের হাতে রামদা, কিরিচ, চাকু ও লোহার রড ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, রহিছ মিয়া তাঁর কাছে টাকা পাওনা রয়েছে দাবি করে তাৎক্ষণিক টাকা ফেরত দিতে চাপ দেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। একপর্যায়ে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডাক-চিৎকারে রক্ষা
আলী ছোবানের অভিযোগ, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি ডাক-চিৎকার করলে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে আসেন। তাঁদের হস্তক্ষেপে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে ঘটনাস্থল ছাড়ার সময়ও তাঁকে পরে একা পেলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে অভিযোগে মো. নাঈম মিয়া, মো. হারুন মিয়া, মো. মানিক মিয়া ও মো. আলম মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদেরসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যদের বক্তব্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
আগেও পথরোধের অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে আলী ছোবান দাবি করেছেন, এর আগেও নগুয়া বাজার ও কৈলাটি এলাকায় রহিছ মিয়া তাঁর পথরোধ করে একই ধরনের আচরণ করেছিলেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস পাওয়ায় তখন থানায় অভিযোগ করেননি বলে দাবি তাঁর।
তবে সর্বশেষ ঘটনায় অস্ত্র প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তদন্তে মিলবে প্রকৃত সত্য
অভিযোগকারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং আশপাশের দোকান বা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগে কথিত অস্ত্রের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, বিষয়টি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত-পূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত রহিছ মিয়া বা অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই বেরিয়ে আসতে পারে ঘটনার প্রকৃত চিত্র।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করা যায় না। এখন পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তেই নির্ধারিত হবে—ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল।
