বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু, ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীর ভিড়

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি: সমতল মাতৃভূমি

কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। জেলার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন নতুন নতুন ডেঙ্গু রোগী। বিশেষ করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। তবে স্বস্তির খবর হলো—ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও এখন পর্যন্ত জেলায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে কুষ্টিয়া জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৩৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত রোববার সকাল ৭টা থেকে সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া সাতজনই কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে একই সময়ে জেলার কোনো বেসরকারি হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।

মিরপুরে আক্রান্ত সর্বাধিক, পিছিয়ে নেই খোকসা-কুমারখালী

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন মিরপুর উপজেলায়—৪৮ জন। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ জন।

এ ছাড়া খোকসায় ৪০ জন, কুমারখালীতে ৩৭ জন, ভেড়ামারায় ৩৪ জন এবং দৌলতপুরে ১৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ভেড়ামারা উপজেলায় বর্তমানে কোনো রোগী ভর্তি নেই। অন্যদিকে দৌলতপুরে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ জন।

২৫০ শয্যা হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি চাপ

উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর তুলনায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১৭ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে ৬ জনকে।

মেডিকেল কলেজের ডেডিকেটেড ওয়ার্ডেও রোগীর চাপ

এদিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পৃথক প্রতিবেদনে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরেকটি চিত্র উঠে এসেছে। হাসপাতালের ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ডে বর্তমানে ২৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে ৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ১৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসেই নিয়ন্ত্রণ

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কোনো বিকল্প নেই। বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, দিন কিংবা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা এবং জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ডেঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।