শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, থানায় মামলা। মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগের মা-বাবাকে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পাঁচজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সাংবাদিকের বাবা আহত মো. আমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ অক্টোবর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পলাশবাড়ী কবিরাজপাড়া এলাকায় নিজেদের জমি দেখতে গেলে রমজান আলীসহ পাঁচ ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালান।
ঘটনার দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন।
৪ দশমিক ১৬ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার ৪ দশমিক ১৬ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আমিনুল ইসলাম ক্রয়সূত্রে জমিটি পাওয়ার পর প্রায় ৩৪ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
জমিটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। এ নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলাও চলমান রয়েছে।
সর্বশেষ গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে তামজিদ হাসানের বাবা-মা তাদের কেনা জমিতে গাছের চারা রোপণ করতে যান। এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
লাঠি-রড দিয়ে হামলা, শ্বাসরোধের অভিযোগ
এজাহারে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে রমজান আলী বাঁশের লাঠি দিয়ে আমিনুল ইসলামের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি তার ডান চোখের নিচে লাগে। এতে ওই স্থানে কালো ও ফোলা জখম হয়।
এরপর কয়েকজন আসামি লোহার রড দিয়ে আমিনুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে এক অভিযুক্ত তার বুকের ওপর বসে দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় শামসাদ বেগম এগিয়ে এসে তাকে সরিয়ে দিলে আমিনুল ইসলাম রক্ষা পান বলে অভিযোগ পরিবারের।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত এক নারী শামসাদ বেগমের চুলের মুঠি ধরে টানাটানি করেন এবং রমজান আলী তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করেন।
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গুরুতর আহত আমিনুল ইসলামকে স্থানীয় লোকজন অটোরিকশায় করে কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্ত্রী শামসাদ বেগম স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সাংবাদিকের দাবি, ‘হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা’
তামজিদ হাসান বলেন, ‘বিবদমান জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। আমার বাবা-মা আমাদের কেনা জমিতে চারা রোপণ করতে যান। সেখানে বিবাদীরা আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা আমার বাবা-মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। আমি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের
অভিযোগ অস্বীকার করে রমজান আলী বলেন, ‘মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার বাসা বানিয়া পাড়া, তার বাসা কবিরাজ পাড়ায়। জমিজমা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। আমরা ওই জমির দুইটা রায় পেয়েছি। জমি দেখতে গেলেই বাগ্বিতণ্ডা হয়।’
‘তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিবাদীপক্ষও আরেকটি মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
