শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেক্রেটারির ৭০০ অটোরিকশা’—ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যের প্রমাণ চাইল জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশের দাবি, দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর বক্তব্যের আহ্বান। ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের ‘একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতার ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে’—এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করে দেওয়া এই বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছে দলটি। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে ডিএনসিসি প্রশাসককে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে বলেও দাবি করেছে জামায়াত।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রশাসকের বক্তব্যকে কাল্পনিক, অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

যেভাবে সামনে এলো ‘৭০০ অটোরিকশা’র প্রসঙ্গ

অটোরিকশার বৈধতার দাবিতে সম্প্রতি বিক্ষোভ করেন চালকরা। তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এরপর একটি টেলিভিশন টকশোতে বলা হয়, জামায়াতের এই নেতার ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। এ কারণেই তিনি অটোরিকশা উচ্ছেদের বিরোধিতা করছেন বলে সেখানে দাবি করা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। শুক্রবারও একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।

শুক্রবার গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করে প্রশাসক বলেন, ‘একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক বললেন অটোরিকশাওয়ালাদের যে দাবি, সেটা সরকারের মানা উচিত। এটা হাস্যকর একটা বক্তব্য। পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই নেতার নাকি ৭০০টা অটোরিকশা আছে।’

‘অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন জরুরি’

ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, প্রশাসকের বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপনের আগে এর সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, জনগণ ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছ থেকে দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও শালীন বক্তব্য প্রত্যাশা করে। অথচ গ্রহণযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন না করে এ ধরনের মন্তব্য করা দায়িত্বশীল আচরণের পরিচায়ক নয়।

জামায়াতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অটোরিকশা চলাচল, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং চালকদের জীবিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো বাস্তবতা ও জনস্বার্থের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে যুক্তি, তথ্য ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা খণ্ডন করা উচিত; কোনো নেতার বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তুলে নয়।

অটোরিকশা ইস্যুতে রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে। সে সময় বিরোধী দল বিএনপি চালকদের জীবিকা রক্ষার যুক্তিতে ওই উদ্যোগের বিরোধিতা করে। বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তখন এক সংবাদ সম্মেলনে রিকশা উচ্ছেদের প্রচেষ্টাকে ‘নিষ্ঠুরতা’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

বর্তমানে একই ইস্যুতে চালকদের দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। তবে অটোরিকশা চলাচল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যে উত্থাপিত ৭০০ অটোরিকশার মালিকানা-সংক্রান্ত অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে দলটি।

জামায়াতের দাবি, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এই ইস্যুতে বিতর্কের অবসান ঘটাতে হলে বক্তব্যের পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, তথ্যের যথার্থতা ও শালীনতা বজায় রাখাও জরুরি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।