ডোপ টেস্টের প্রস্তুতিকালে উধাও পুলিশ কর্মকর্তা, খুঁজছে পুলিশ; বক্তব্যে ওসির ভিন্ন সুর। প্রতীকী ছবি
বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) থানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দেলোয়ার হোসেন (৩৮) নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানা থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। ডোপ টেস্টের প্রস্তুতিকালে সুযোগ বুঝে তিনি থানা থেকে বেরিয়ে যান বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এদিকে তাকে খুঁজে বের করতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।
তবে এ ঘটনা নিয়ে ওসির বক্তব্যে ভিন্ন সুর পাওয়া গেছে। দেলোয়ার পালিয়ে গেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পালাননি, হয়তো ভয়ে দূরে কোথাও গেছেন।’ তার এ বক্তব্য ঘিরে আটক পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থান ও থানা থেকে চলে যাওয়ার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে আটক
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এএসআই দেলোয়ার হোসেনসহ চারজনকে আটক করেন। দেলোয়ার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় কর্মরত। তিনি খুলনা সদরের শের-ই-বাংলা রোড এলাকার মো. সাখাওয়াত হোসেন সিকদারের ছেলে।
অভিযানে আটক অন্য তিনজন হলেন—বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ভট্টখামার নোয়াপাড়া এলাকার আবু সাঈদ মোল্লার ছেলে নাহিদ হাসান (২৬), বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার মৃত এমএ বারীর ছেলে মো. মিরাজুল ইসলাম (৩৪) এবং বরিশাল নগরের কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার হেমায়েত গাজীর ছেলে নুরজাত (৩০)।
টিনের চাল টপকে পালানোর চেষ্টা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় মিরাজুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় এএসআই দেলোয়ার হোসেন টিনের ওপর দিয়ে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করা হয়।
আটকের পর তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিমানবন্দর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানার এক পরিদর্শক ঘটনাস্থলে গিয়ে দেলোয়ারকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
ডোপ টেস্টের আগেই উধাও?
পরে দেলোয়ার হোসেনকে বিমানবন্দর থানায় নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ডোপ টেস্টের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এ সময় সুযোগ বুঝে তিনি থানা থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন ওসি। তবে অন্যদিকে, তাকে সন্ধ্যার দিকে থানা থেকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
রাতে পুলিশ জানায়, দেলোয়ার হোসেনকে খুঁজে বের করতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চলছে। তবে তিনি ঠিক কখন, কীভাবে এবং কী পরিস্থিতিতে থানা থেকে বেরিয়ে গেলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাদকবিরোধী অভিযানে আটক একজন পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে থানা থেকে চলে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে তার অবস্থান শনাক্ত, থানা থেকে চলে যাওয়ার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
