সকালে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল পরিবারের সদস্যদের, ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে আটকা পড়ে প্রাণহানি; ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর। নাফিস তেহামী ও লায়লা জাহান নাবিলা। ফাইল ছবি
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দুই শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে টুপটুপ নামে একটি রিসোর্টে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে ওই রিসোর্টে মোট ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিস তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল প্রাং সমকালকে নাফিস তেহামীসহ একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় মোট ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
একই পরিবারের ছয়জনের প্রাণহানি
একই পরিবারের নিহত ছয়জন হলেন—ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিস তেহামী, ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী ফাইয়াজ আহম্মেদ।
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জন হলেন—মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিসা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
হতাহত ব্যক্তিরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল আহাদ সরকারের আত্মীয়। সমকালকে তাঁদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন আবদুল আহাদ সরকার।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের ছয়জন এ ঘটনায় মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে আমার চারজন মেয়ে কাজিন, একজন ছেলে কাজিন এবং আমার এক মেয়ে কাজিনের ছোট সন্তান ফাইয়াজ রয়েছে। নাফিস ও নাবিলাও আমাদের আত্মীয়। তাঁরা আমার মায়ের ফুফাতো বোনের পরিবারের সদস্য।
সকালে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার সময় তাঁরা ঘুমিয়ে ছিলেন। এ কারণে আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে তাঁরা বের হতে পারেননি।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার সমকালকে বলেন, এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এর মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য থাকতে পারেন। তবে ডিএনএ রিপোর্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক
শিক্ষার্থীদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এক শোকবার্তায় বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখের ও বেদনার। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত।
অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এক শোকবার্তায় শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
