রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বান্দরবান-চট্টগ্রামে ভুয়া টিপিতে কাঠ পাচার, বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ট্রাক আটকের নির্দেশের পরও রাতের আঁধারে ঢাকায় কাঠ পাঠানোর অভিযোগ, সাংবাদিক ‘ম্যানেজ’ করার নামেও অর্থ আদায়। ফাইল ছবি

সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ আহরণ, ভুয়া ট্রানজিট পাস (টিপি) ব্যবহার করে পাচার এবং লাখ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে কাঠবোঝাই ট্রাক ঢাকায় পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে বান্দরবান ও চট্টগ্রামের একাধিক বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাক আটকের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর না করে রাতের আঁধারে অর্থের বিনিময়ে কাঠবাহী যানবাহন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ ঠেকানোর কথা বলেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বান্দরবান বন বিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী সাইফুলের নেতৃত্বে অবৈধভাবে আহরিত কাঠ দুটি ট্রাকে বোঝাই করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাঠের জাত ও পরিমাণ যথাযথভাবে যাচাই না করেই ট্রানজিট পাস দেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রামের বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে ঘুষের বিনিময়ে ট্রাক দুটি ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যাচাই ছাড়াই টিপি, দুই ট্রাকে কাঠ পরিবহন

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ৭ অক্টোবর মহিউদ্দিন ও কায়সার নামের দুই ব্যবসায়ী পিরোজপুর-ট ১১-০১৮৬ এবং চট্ট মেট্রো-ট ১২-০৬৭৯ নম্বরের দুটি ট্রাকে কাঠ বোঝাই করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কাঠের প্রজাতি ও পরিমাপ যাচাই না করেই বান্দরবান সদর রেঞ্জের কর্মকর্তা কাজী সাইফুল লোডিং চেক এবং বৈধতার ছাড়পত্র দিয়ে ট্রানজিট পাস প্রদান করেন।

বিষয়টি গোপন সূত্রে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাসের মোহাম্মদ মহাসিনকে জানানো হয়। একই সঙ্গে ট্রাক দুটি আটকের অনুরোধ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ডিএফও ট্রাক আটকের নির্দেশ দিলেও রাত ১টা পর্যন্ত লোকদেখানো দায়িত্ব পালন করা হয়। এ সময় ট্রাকমালিকদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগ ওঠে। পরে ফৌজদারহাট ও ধূমঘাট চেক স্টেশনের দুই স্টেশন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ও শামীম রেজাকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি চক্র ২ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ভোর ৩টার দিকে ট্রাক দুটি ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয় ট্রাকেও একই অভিযোগ, ঘুষ ৩ লাখ টাকা

একই ধরনের অভিযোগ ওঠে ১২ অক্টোবরের আরেকটি ঘটনায়। সোহেল কেরানির মালিকানাধীন চট্ট মেট্রো-ট ১১-০৫৩৮ নম্বরের ট্রাকে কাঠ বোঝাই করে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। ট্রাকটির টিপি নম্বর ০৩/০০৩৫৩৭, যার তারিখ ১১/১০/২০২৬।

এ ঘটনায়ও গোপন সূত্রের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ও ডিএফওকে অবহিত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এবার ডিএফও ফৌজদারহাট স্টেশন কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে ট্রাকটি আটকের নির্দেশ দেন।

ট্রাকটি আটক করা হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ধূমঘাট স্টেশন কর্মকর্তা ও বান্দরবানের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী সাইফুলের সঙ্গে যোগসাজশে রাতে কাঠের বৈধতা যাচাইয়ের নামে লোকদেখানো প্রক্রিয়া চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ২ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলে আরও ১ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে কাঠবোঝাই ট্রাকটি ঢাকায় পাঠানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

সংবাদ ধামাচাপা দেওয়ার নামেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ ঠেকানোর কথা বলে স্টেশন কর্মকর্তা কাজী সাইফুলের কাছ থেকে আরও ১ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অর্থ কে বা কারা নিয়েছেন, সে বিষয়ে অভিযোগের বিবরণে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থের ভাগ নেওয়ার দাবি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফরেস্টার দাবি করেছেন, কাঠ পাচারের ঘটনায় নেওয়া ঘুষের অর্থের ভাগ ডিএফও আবু নাসের মোহাম্মদ মহাসিনও পেয়েছেন। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ডিএফওর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ডিএফও আবু নাসের মোহাম্মদ মহাসিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে তিনি আর যোগাযোগ করেননি।

অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ প্রতিবেদনে বান্দরবান সদর রেঞ্জের কর্মকর্তা কাজী সাইফুল, ফৌজদারহাট স্টেশন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, ধূমঘাট স্টেশন কর্মকর্তা শামীম রেজা, বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং কাঠ ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন, কায়সার ও সোহেল কেরানির বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ট্রানজিট পাস, কাঠের উৎস, পরিমাণ, পরিবহন নথি ও ট্রাক আটকের নির্দেশের রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বনসম্পদ পাচার ও ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।