বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভুয়া ‘এসআরবি’ পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি: চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৪:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কালো পোশাক, এসআরবি লেখা জ্যাকেট, ভুয়া পরিচয়পত্র ও হ্যান্ডকাফ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ; রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ—চক্রের প্রধান সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে ১৩ মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত এই চক্রের সদস্যরা ভুয়া এসআরবি পরিচয়পত্র, বিশেষ লেখা জ্যাকেট ও হ্যান্ডকাফ ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অপহরণের পর ব্যবসায়ীকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫-সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। অভিযান চালিয়ে বুধবার ভোরে তাঁকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে মোট ১৩টি মামলার তথ্য রয়েছে।

২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ, না দিলে হত্যার হুমকি

অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর একই দিন রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপকের মুঠোফোনে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে কল আসতে শুরু করে। ফোনে অপহরণকারীরা ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে ব্যবসায়ীকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর ব্যবসায়ীর ভাই মো. হোছাইমের এজাহারের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানায় মামলা করা হয়। অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর ৪টার দিকে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়।

সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং অপহরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চক্রের অন্য সদস্যরা সহযোগিতা করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাবেক সেনাসদস্যের নেতৃত্বে চক্র গঠনের অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি আগে উখিয়া এলাকায় র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় রোহিঙ্গাদের কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুত ও কারাভোগের পর তিনি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে ভুয়া এসআরবি দল গড়ে তোলেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, আব্বাস উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সুমনকে তথ্য দিতেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সুমন ও তাঁর সহযোগীরা ভুয়া এসআরবি পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সুমন মুন্সি, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার মিজানুর রহমান, উখিয়া উপজেলার জয়নাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার আব্বাস উদ্দিন, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা ছলিম ওরফে সেলিম এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার দেলোয়ার হোসেন।

অভিযানকালে অপহরণে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, এসআরবি লেখা পাঁচটি কালো জ্যাকেট, দুটি ভুয়া এসআরবি পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে ১৩টি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা এবং আলোচিত অপহরণে প্রত্যেক অভিযুক্তের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের এমন অভিযোগ জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুয়া পরিচয়পত্র ও পোশাক ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগের পাশাপাশি চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।