প্রাণনাশের হুমকি ও হামলার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় রানু আক্তারের পরিবার। তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিএনপির নাম ব্যবহার করে ৪২ শতাংশ পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। জমি ছেড়ে দিতে চাপ, বাড়িতে হট্টগোল এবং এক নারীকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন ভুক্তভোগী রানু আক্তার ও তাঁর পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের পূর্ব বেহাকৈর এলাকায়। অভিযোগের তীর সালাউদ্দিন ওরফে সালু, ইসহাক ভূঁইয়া, মফিজুর ওরফে গাউঙ্গা, রাজন ভূঁইয়া, নূরুল হক ও নয়ন ভূঁইয়াসহ কয়েকজনের দিকে।
ভুক্তভোগী রানু আক্তার ও তাঁর বোন জহুরার দাবি, তাঁদের বাবার রেখে যাওয়া জমি ও বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বেহাকৈর মৌজায় তাঁদের বাবার ৮১ শতাংশ জমির মধ্যে ৪২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। ওই জমি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় পরিবারটি এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
বাড়ি ছাড়তে চাপ, ৫০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ
রানু আক্তারের অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর কয়েকজন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে হট্টগোল করেন। এ সময় বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরদিন ১৭ অক্টোবর আবারও তাঁদের গালিগালাজ করা হয় বলে দাবি তাঁর।
রানুর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে থাকতে হলে ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে—এমন শর্ত দেওয়া হয়। অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারটির দাবি, পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁদের ওপর ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
চার বছরের মেয়েকে নিয়ে ফেরার পথে হামলার অভিযোগ
রানু আক্তারের বোন জহুরার অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিমরাইল মাছবাজার সড়কে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
এ সময় তাঁকে মারধর করে একটি রেডমি নোট ১৩ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন জহুরা। পাশাপাশি সুইচ গিয়ার দিয়ে আঘাতের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
পরিবারটির অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁদের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী সদস্যদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
বিএনপির নাম ব্যবহারের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অভিযোগে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারটির সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পৈতৃক জমি রক্ষা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রানু আক্তার ও তাঁর বোন।
তাঁদের দাবি, জমি দখলের চেষ্টা, হামলা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে তাঁরা যেন নিজ বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
