পূর্ব এশিয়াজুড়ে বছরের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে যাচ্ছে। এর নাম ‘চাপ্পি’। গত মঙ্গলবার এর গতিবেগ ছিল ১৮৫ মাইল (২৯৮ কিলোমিটার), যা ৫ হারিকেন ক্যাটাগরির কাছাকাছি।
‘চাপ্পি’র প্রভাবে পূর্ব এশিয়ার দেশ চীন, জাপান ও তাইওয়ানের হাজারো ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে তাইওয়ানে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন। তাইওয়ানে জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জরুরি ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী চো জং-তাই জনসাধারণকে সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের (সিডব্লিউএ) প্রধান লু কুও-চেন জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘চাপ্পি’ পুরো তাইওয়ানে স্থলভাগে আঘাত হানবে। এরপর পুরো তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলবে। আগামীকাল শনিবার ও রোববার এটি ধীরে ধীরে তাইওয়ান ত্যাগ করবে। তবে আজ শুক্রবার থেকে আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাইওয়ানে ঘূর্ণিঝড় ‘চাম্পি’তে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এক হাজারেরও বেশি মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ শুক্রবারের জন্য নির্ধারিত ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং ৬৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ ।
শক্তিশালী এই ঝড়ের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে রেল ও ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়েছে এবং কিছু মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় সতর্কতায় আজ শুক্রবার তাইওয়ানের ২২টি কাউন্টি ও শহরের প্রায় সবকটিতেই কাজকর্ম ও ক্লাস স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে মূল ভূখণ্ডের পশ্চিমে অবস্থিত দ্বীপপুঞ্জ ‘কিনমেন কাউন্টি’-তে কাজকর্ম ও ক্লাস স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শেয়ারবাজার—তাইওয়ান স্টক এক্সচেঞ্জও আজ বন্ধ রয়েছে।
দ্বীপটিতে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে; এর মধ্যে তাইপেই শহরের কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুন ‘চাম্পি’র প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো আবহাওয়া আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে তীব্র বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে বাতাসের গতিবেগ বিউফোর্ট স্কেলের সর্বোচ্চ স্তর—১২ নম্বর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সমুদ্রসৈকত ও পাহাড়ি এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
জাপানের চারটি এয়ারলাইন্সের ১৬০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। জাপানি এয়ারলাইন ‘অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ’ (এএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের মিয়াকো বিমানবন্দর এবং ইশিগাকি বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া ওখোটস্ক মনবেৎসু, ওকিনাওয়া নাহা, সুশিমা, মিয়াজাকি এবং কাগোশিমা বিমানবন্দরেও ফ্লাইট কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
কিছুক্ষণ আগে দেওয়া এক আপডেটে জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে যে, তারা তাইপেই সোংশান বিমানবন্দর ও তাইওয়ান তাওয়ুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইটগুলো বাতিল করেছে।
ওকিনাওয়া ইলেকট্রিক পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৩ হাজার ৬৩০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
চীনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড়ের জন্য একটি ‘নীল’ সতর্কতা জারি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি দেশটির পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে বয়ে যাবে। আবহাওয়া সংস্থাটি সাংহাইসহ পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে শক্তিশালী বাতাস এবং ৫০ থেকে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের বিষয়ে সতর্ক করেছে।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন প্রদেশ ঝেজিয়াং-এ ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
