পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও উন্নত পর্যটনসেবায় জোর। ফাইল ছবি
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এ সমুদ্রসৈকতের আকর্ষণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শুক্রবার সকালে কুয়াকাটার হোটেল খান প্যালেসে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কুয়াকাটা বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের অন্যতম সম্ভাবনাময় স্থান। একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য সুযোগ, বিস্তীর্ণ বালুকাময় সৈকত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এ পর্যটনকেন্দ্রকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে কুয়াকাটা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকত গড়ে তুলতে হলে পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং মানসম্মত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সৈকতে আধুনিক গণশৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বসার স্থান, তথ্যকেন্দ্র, পার্কিং সুবিধা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু করতে হবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সৈকতে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড নিয়োগ, উদ্ধারব্যবস্থা জোরদার এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা গেলে কুয়াকাটার পর্যটনসেবার মান আরও উন্নত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে পর্যটনসেবা উন্নত করা গেলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এর ফলে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসন-৪৯-এর সংসদ সদস্য মিজ সুলতানা জেসমিন জুঁই, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম, পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশূ সরকার কুট্টিসহ পটুয়াখালী জেলার জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
