স্বপ্ন ছিল সীমান্ত পেরিয়ে চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে—কিন্তু সেই স্বপ্নই আজ অনেকের জন্য পরিণত হচ্ছে দুঃস্বপ্নে। ইন্ডিয়ান ভিসা করে দেওয়ার নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভুয়া এজেন্সি ও অসাধু দালালচক্র, যারা রঙিন প্রতিশ্রুতির মোহে সাধারণ মানুষকে টেনে নিচ্ছে প্রতারণার অন্ধকার গহ্বরে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুক—এখন এই প্রতারণার প্রধান মঞ্চ। সহজে ভিসা, গ্যারান্টি ভিসা, দ্রুত প্রসেসিং,—এমন আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের জালে আটকা পড়ছেন অসংখ্য মানুষ। একসময় যেখানে চিকিৎসা ভিসা ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ৮০০ টাকায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতো, সেখানে এখন সেই খরচ ফুলে-ফেঁপে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা ও ধীরগতির সুযোগ নিয়েই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই খাতে আধিপত্য বিস্তার করেছে। চিকিৎসা, টুরিস্ট, স্টুডেন্ট কিংবা ব্যবসায়িক ভিসার নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত সেবা পাওয়া তো দূরের কথা—বরং প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য যেন এক করুণ উপাখ্যান—“দ্রুত ভিসা হবে” এই আশ্বাসে টাকা দিয়েও নির্ধারিত সময়ে কোনো সাড়া মেলে না। কেউ কেউ পুরো টাকাই হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন।
দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ভিসা প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি সহজ না হওয়ায় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য থামছে না। প্রতিদিনই নতুন নতুন ফেসবুক পেজ খুলে একই কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে—যেন এক অন্তহীন প্রতারণার গোলকধাঁধা।
সচেতন মহল বলছে, এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে জরুরি ভিত্তিতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং ভুয়া এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দুই বাংলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—স্বল্প খরচে, সহজ প্রক্রিয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে চিকিৎসা নেওয়া—আজও অপূর্ণ। আর সেই অপূর্ণ স্বপ্নকেই পুঁজি করে প্রতারকরা গড়ে তুলছে তাদের নিষ্ঠুর ব্যবসা। প্রশ্ন একটাই—এই প্রতারণার শেষ কোথায়?
