মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে আমদানি, চট্টগ্রাম বন্দরে ১৭.৫১ টন সন্দেহজনক পণ্য

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৭:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে আনা দুটি চালানে প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ টন সন্দেহজনক পণ্যের সন্ধান পাওয়া গেছে। কাস্টমস নথিতে এক চালানে পান মসলা ও জর্দা এবং অন্য চালানে ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ ঘোষণা করা হলেও কায়িক পরীক্ষায় মিলেছে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী, বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থ এবং ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার।

রোববার চালান দুটি শনাক্ত করেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কর্মকর্তারা। তবে পাউডারজাত পদার্থে মাদক বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পরই এসব পদার্থের প্রকৃত পরিচয় জানা যাবে।

সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, চালানের কাগজপত্রে আমদানিকারক হিসেবে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, এ আমদানির বিষয়ে তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান কিছুই জানেন না। তাঁর দাবি, কোনো অসাধু চক্র তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালান দুটি দেশে এনেছে।

কাস্টমস নথি অনুযায়ী, এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস জাহাজে কলকাতা থেকে চালান দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ২০ সেপ্টেম্বর জাহাজটি কলকাতা থেকে যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই মাস্টার বিল অব লেডিংয়ের অধীনে দুটি হাউস বিল অব লেডিংয়ে পণ্য দুটি আমদানি দেখানো হয়।

ঘোষণায় পান মসলা-জর্দা, মিলল তামাক ও পাউডার

প্রথম চালানে ৪৭৩ প্যাকেজে ‘পান মসলা অ্যান্ড জর্দা (চিউইং টোব্যাকো প্রোডাক্ট)’ ঘোষণা করা হয়। এর ঘোষিত ওজন ছিল ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি।

রোববার কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে পাওয়া যায় ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী। একই চালান থেকে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও পাওয়া যায়। এসব পাউডারে মাদক, নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত কোনো উপাদান রয়েছে কি না, তা এখনো পরীক্ষাধীন।

ক্যাটালগের বদলে ৯.২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার

অন্য চালানটিতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ ঘোষণা করা হয়। এর ঘোষিত ওজন ছিল ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি।

কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে পাওয়া যায় ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার। ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মিল না থাকায় চালানটি নিয়ে কাস্টমস গোয়েন্দাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

কারা ব্যবহার করেছে অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম?

চালান দুটির প্রকৃত আমদানিকারক কে, ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে এসব পণ্য কেন আনা হয়েছে এবং কীভাবে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হলো—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে সিআইআইডি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক, পণ্যের প্রকৃত পরিচয় এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাউডারজাত পদার্থের ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই এর প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।