জাতীয়তাবাদী শেখ রেহানার ‘ক্যাশিয়ার’ কিংবা মুক্তাদিরের ‘ক্যাশিয়ার’, হোন্ডায় পিজ্জা ডেলিভারি করা শামীমের ছেলেকে পদায়ন—সব জাতীয়তাবাদীদের আদর্শ খালেকুজ্জামান। ফাইল ছবি
গত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় ‘জালিয়াতির জাল বুনে খালেকুজ্জামানের রাজত্ব, অস্ট্রেলিয়ায় ১১ বছর কাটিয়েও পেয়েছেন পদোন্নতি’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ৫ আগস্টের পর বাগিয়ে নেন প্রধান প্রকৌশলীর পদ, গড়েন সিন্ডিকেট’। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব নেন মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী। পাশাপাশি নিজের পছন্দের লোকজন নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এমনকি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে বদলি-বাণিজ্যের হোতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ‘ভুয়া খবর’। তাদের ভাষ্য, মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী একজন সৎ, নিষ্ঠাবান এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে বিএনপিপন্থী প্রকৌশলী।
এ বিষয়ে তার আদর্শ বিএনপিপন্থী সচিব হিসেবে জনাব মহীউদ্দীন খান আলমগীরের প্রসঙ্গও সামনে আনা হয়েছে। ১৯৯৩ সালে তাকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরবর্তী সময়ে সচিব পদমর্যাদায় পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য নির্বাচিত করে তৎকালীন বিএনপি সরকার। একইভাবে জাতীয়তাবাদী ঘরানার আরেক কর্মকর্তা জনাব মঈন ইউ আহমেদকে ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার সেনাপ্রধান নিয়োগ করেছিল।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ম খাঁ আলমগীর ও মঈন ইউ আহমেদের মতোই খালেকুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের কথিত আওয়ামী সিন্ডিকেট ভেঙে জাতীয়তাবাদী ঘরানার কর্মকর্তাদের যথাযথ জায়গায় বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
এর উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, জাতীয়তাবাদী ঘরানার শেখ রেহানার ‘ক্যাশিয়ার’খ্যাত আতিকুল ইসলাম আতিককে মাগুরা এবং ওবায়দুল মুক্তাদীরের ‘ক্যাশিয়ার’খ্যাত মোস্তাফিজ সবুজকে গাইবান্ধায় পদায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ জাতীয়তাবাদী ‘মহামানব’ হিসেবে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উল্লেখ করা আলী হায়দার শামীমের ছেলে জুবায়ের বিন হায়দারকে সংসদ ভবনের ভেতরে পদায়নের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
এসব কর্মকর্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অভিযোগও সামনে আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পেশাগতভাবে গ্রেড-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হলেও দীর্ঘদিন তাদের পদাবনমন করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সেটআপ অনুযায়ী ১৯তম গ্রেডের ‘ক্যাশিয়ার’ পদে রেখে দেওয়া হয়েছিল।
এখানেই শেষ নয়। জুবায়ের বিন হায়দারের পিতা আলী হায়দার শামীমকে দিয়ে তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আজমেরী ওসমানের হোন্ডা চালিয়ে পিজ্জা আনার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর পিতাকে দিয়ে হোন্ডা চালানো ও পিজ্জা ডেলিভারি করানোর ঘটনাকে চরম অপমানজনক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন হোন্ডা চালানো ও পিজ্জা ডেলিভারির কথিত ঘটনার সূত্র ধরে ব্যঙ্গ করে আলী হায়দার শামীমকে ‘পিজ্জা শামীম’ এবং ‘হোন্ডা বাহিনীর নেতা’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখাটির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ঘটনাই নাকি প্রমাণ করে—বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী হওয়াই যেন এক ধরনের পাপ। জাতীয়তাবাদী হলে কাউকে দিয়ে ক্যাশিয়ারি করানো হবে, কাউকে দিয়ে হোন্ডা চালানো হবে, আবার কাউকে দিয়ে পিজ্জা ডেলিভারিও করানো হবে।
আর এসব ‘বৈষম্য’ রুখতেই গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রয়োজন ছিল খালেকুজ্জামান চৌধুরীর মতো একজন ‘বিচক্ষণ নেতা’—এমন ব্যঙ্গাত্মক দাবিও করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, খালেকুজ্জামান চৌধুরী সবসময় জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করে সংশ্লিষ্টদের জন্য তদবির করে এসেছেন। কিছুদিন আগেও আরেক জাতীয়তাবাদী বদরুল আলম খানের জন্য তিনি সুপারিশ করেছেন বলে দাবি করা হয়। একইভাবে জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর আত্মীয় মাসুদ রানা এবং আরেক জাতীয়তাবাদী লিকুর আত্মীয় আহসান হাবীবের জন্যও তার তদবিরের শেষ নেই, এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এমনকি জাতীয়তাবাদী ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নেতা রায়হান মিয়ার জন্য তদবির করে তার ঢাকা ত্যাগ ঠেকিয়ে দেওয়ার ‘বীরত্বপূর্ণ কাজটিও’ খালেকুজ্জামান চৌধুরী করেছেন—এমন দাবি করা হয়েছে।
তবে সমালোচকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তিনি কি কখনো কোনো আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তার জন্য এমন তদবির করেছেন?
অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের জন্য তদবিরের বদলে তাদের যথাসময়ে ‘গুটিবাজি’ করে রিজার্ভে রেখে দেওয়া হয়েছে।
ফলে কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলা হয়েছে—
ধন্যবাদ জনাব খালেকুজ্জামান চৌধুরী। আপনার মতো জাতীয়তাবাদীদেরই তো বিএনপি খুঁজছে।
