ক্ষমতার অন্দরমহলের গুঞ্জন, রাজনৈতিক দায় চাপানোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর বহুল আলোচিত ‘কিচেন কেবিনেট’ বিতর্ক—সব মিলিয়ে রাজধানীর বাংলামোটরে মঙ্গলবার বিকেলের সংবাদ সম্মেলন যেন হয়ে ওঠে রাজনৈতিক উত্তাপের নতুন মঞ্চ। সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, অন্তর্বর্তী সরকারে ‘কিচেন কেবিনেট’ ছিল ঠিকই, তবে তিনি সেই গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন না।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে এক সাংবাদিক সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন—তিনি কি সেই আলোচিত ‘কিচেন কেবিনেটের’ অংশ ছিলেন? জবাবে শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে আসিফ মাহমুদ বলেন, আমিও বলেছি, কিচেন কেবিনেট ছিল, কিন্তু আমি সেটার সদস্য ছিলাম না।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো ‘কিচেন কেবিনেট’ প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় আসে তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। যদিও সরকারে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো কাঠামো নেই, তবুও রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত কিছু ব্যক্তিকে ঘিরে গড়ে ওঠা অপ্রকাশ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বলয়কেই সাধারণত ‘কিচেন কেবিনেট’ বলা হয়ে থাকে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে হওয়া বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর দাবি, এই চুক্তির বিষয়ে এনসিপির কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। বরং পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এই চুক্তিটা বিএনপিই করেছে। কিন্তু সংসদ নির্বাচনের তিনদিন আগে তাদের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে সেটি অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন রাজনৈতিক ব্লেম গেম চলছে।
আসিফ মাহমুদ আরও দাবি করেন, চুক্তি নিয়ে সব দলকে অবহিত করার যে কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তা হয়নি। দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন—এনসিপির কারও মতামত নেওয়া হয়নি।
সরকারের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, চুক্তিটি করেছেন বর্তমান বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যদি এতে দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে সরকার সেটি পর্যালোচনা করুক, প্রয়োজন হলে বাতিল করুক। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আলোচনা চালানো হোক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বারবার অন্তর্বর্তী সরকার, এনসিপি ও জামায়াতের ওপর দায় চাপিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষায়, মানুষকে ভুলের মধ্যে রাখার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
