মাদক, চেক ডিজঅনার ও প্রতারণার মামলায় দণ্ডাদেশ; চেকের অর্থ পাওনাদারকে পরিশোধের নির্দেশ। ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, চেক ডিজঅনার ও প্রতারণার পৃথক মামলায় একাধিক আসামিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এসব মামলায় কোনো আসামিকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড, কাউকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, আবার কোনো আসামিকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ নালিশকারীকে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতারণার মামলায় তিন আসামিকে দেওয়া হয়েছে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জনাব মোস্তফা পারভেজ বিভিন্ন মামলার রায় ও আদেশে এসব দণ্ড প্রদান করেন। আদালতের রায় ও আদেশের কপি অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮, দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ এবং দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এসব সাজা ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
দৌলতপুরের মাদক মামলায় স্বপনের এক বছরের কারাদণ্ড
দৌলতপুর থানার জি, আর-৬৫৮/২০২২ নম্বর মাদক মামলায় আসামি মোঃ ইসমাইল হোসেন স্বপনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার আসামি মোঃ ইসমাইল হোসেন স্বপন, পিতা মোঃ ইন্তাজ আলী শেখ, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া (বিল বোয়ালিয়া শেখপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। আদালতের নথিতে তাঁকে জামিনে গিয়ে বর্তমানে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণী ১০(ক) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক এ দণ্ডাদেশ দেন।
চেক ডিজঅনার মামলায় ফেন্সির ছয় মাসের কারাদণ্ড
দৌলতপুর সি, আর-২৬২/২০২৪ নম্বর চেক ডিজঅনার মামলায় আসামি ফেন্সিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে চেকের সমপরিমাণ ৯৮ হাজার টাকা নালিশকারীকে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসামি ফেন্সি, পিতা মৃত আঃ কাদের, পাবনার ঈশ্বরদী থানার পিয়ারাখালী জামতলা এলাকার বাসিন্দা। মামলার নথিতে তাঁকে শুরু থেকেই পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
মাফুর দুই বছরের কারাদণ্ড, সানোয়ারের ২০ দিনের সাজা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের পৃথক মামলায় মোছাম্মাৎ মাফুকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণী ১৯(ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, মোঃ সানোয়ার মণ্ডলকে একই আইনের ৩৬(৫) ধারায় ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
আতিকুর রহমানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড, পরিশোধ করতে হবে ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা
চেক ডিজঅনার মামলায় মোঃ আতিকুর রহমানকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি চেকে উল্লেখিত দুই লাখ ৯৭ হাজার ১৯২ টাকা নালিশকারীকে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ আদেশ দেন।
প্রতারণার মামলায় তিন আসামির তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় ফিরোজ আল মামুন, মোঃ শওকত উল্লাহ সাগর ও শ্রী সমীর কুমার রায়কে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালতের রায় ও আদেশের কপিতে এসব দণ্ডাদেশের উল্লেখ রয়েছে।
আদালতের রায়ে অপরাধের দায়ে দণ্ড, চেকের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ
আদালতের পৃথক রায় ও আদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, চেক ডিজঅনার ও প্রতারণার মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চেক ডিজঅনারের মামলাগুলোতে চেকে উল্লেখিত অর্থ নালিশকারীকে পরিশোধের নির্দেশও রয়েছে।
এসব মামলার দণ্ডাদেশ সংশ্লিষ্ট রায় ও আদেশের কপিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
