বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুষ্টিয়ায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ: ৬০ বছরের আসামির যাবজ্জীবন

এস এম বাদল
সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৬:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১২ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের মামলায় মো. তাহাজুদ্দিন মণ্ডল (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক এইচ. এম. শফিকুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে কুমারখালী থানার মিরপুর পশ্চিম পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় মিরপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

ঘটনার দিন রাতে নিজ বাড়ির দক্ষিণ পাশে থাকা বাথরুমের দিকে যাওয়ার সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী মৃত আলাউদ্দিন মণ্ডলের ছেলে তাহাজুদ্দিন মণ্ডল শিশুটির মুখ চেপে ধরে। পরে তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি বাঁশবাগানের ঝোপের আড়ালে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

একপর্যায়ে শিশুটির ডাক-চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয় সাক্ষী মো. রুহুল, মো. শিপন বিশ্বাস, মো. বিপ্লব বিশ্বাসসহ অন্যরা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে আসামি তাহাজুদ্দিন সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

থানায় মামলা, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া

ঘটনার পর পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগীর মা ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর কুমারখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ২৩।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী মো. আব্দুল মজিদ এবং আসামিপক্ষের কৌশলী মো. তানজিলুর রহমান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০২০)-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

জরিমানার টাকা যাবে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণে

রায়ে আদালত আসামি তাহাজুদ্দিন মণ্ডলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, আসামি এ মামলায় পূর্বে যে সময় হাজতে ছিলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার বিধান অনুযায়ী সেই সময় সাজা থেকে বাদ যাবে।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভুক্তভোগী শিশুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আদালত কুষ্টিয়ার জেলা কালেক্টর (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট)-কে আইন অনুযায়ী ওই অর্থ আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত ভিকটিমকে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রায়ের পর কারাগারে আসামি

রায় ঘোষণার পর সাজাপরোয়ানা মূলে দণ্ডপ্রাপ্ত তাহাজুদ্দিন মণ্ডলকে কড়া নিরাপত্তায় কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দীর্ঘ ছয় বছরের বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালতের এ রায়ে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সারাবাংলা সর্বশেষ