বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুষ্টিয়ায় হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগ, পোড়াদহ জংশনে ৪০০ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে তৃপ্তির আহার

হারুন অর রশীদ চৌধুরী
অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৮:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি: সমতল মাতৃভূমি

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে জংশনে ক্ষুধার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী অরাজনৈতিক সংগঠন ‘হাসিমুখ ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির উদ্যোগে প্রায় ৪০০ হতদরিদ্র, ভাসমান ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের মাঝে পরিবেশন করা হয়েছে একবেলার তৃপ্তির খাবার। ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই আয়োজন যেন হয়ে উঠেছে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১টায় পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এ খাবার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা আর ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করা মানুষগুলো এদিন সারিবদ্ধভাবে বসে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেন গরম ভাত, মুরগির মাংস ও মুসুরের ডাল।

নিজস্ব অর্থায়নে ১৫ মাস ধরে মানবিক কার্যক্রম

স্থানীয় সূত্র ও আয়োজকদের তথ্যমতে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আইলচারা ও পোড়াদহ এলাকাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হাসিমুখ ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় প্রতি মাসে অন্তত একদিন অনাহারী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করে আসছে।

সোমবারের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি তাদের মানবিক কার্যক্রমের ১৫তম মাসে পদার্পণ করেছে। ধারাবাহিকভাবে এমন উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় জানিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা।

প্ল্যাটফর্মে একবেলার খাবার, মুখে তৃপ্তির হাসি

পোড়াদহ জংশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে খাবার বিতরণের সময় একসঙ্গে বসে আহার করেন ভবঘুরে ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। খাবার গ্রহণের এই মুহূর্তে তাঁদের মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। স্থানীয় প্রবীণ ও পথবাসীদের মতে, প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এসব মানুষের জন্য এমন আয়োজন একবেলার খাবারের পাশাপাশি কিছুটা স্বস্তি ও আনন্দও বয়ে আনে।

খাদ্য বিতরণকালে হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাজমুল হোসেন, মিলন খন্দকার, শাজাহান, শহিদুল, দুলাল, শ্রী সুরত ধর, মামুন শেখ ও মিজানুর রহমান।

‘ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য’

হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাজমুল হোসেন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানবতার সেবা করা এবং ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। গত ১৫ মাস ধরে আমরা নিজেদের অর্থায়নে এ উদ্যোগ চালিয়ে আসছি। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বড় করার ইচ্ছা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পোড়াদহ জংশনে হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের এই আয়োজন প্রমাণ করে, সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েও সমাজে মানবিকতার আলো ছড়ানো সম্ভব।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।