কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের লালনগরে একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে একই পরিবারের দু’জনকে গুরুতর রক্তাত্ব জখম করেছে। এ সময় নগদ ১৫,০০০ টাকা লুটের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪:৩০ মিনিটে লালনগরের আরজেত আলীর চায়ের দোকানের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পূর্ব শত্রুতার জেরে বিবাদী ১ নং আসামি মোঃ রেজাউল করিম ওরফে রাজা (৫৫), ২ নং আসামি মোঃ মেহেদী হাসান রাজিব (২৫) এবং ৩ নং আসামি মোঃ শফিউল (৬০) পরস্পর যোগসাজশে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালায়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় তৈরি ধারালো হাতকুড়াল ও রামদা নিয়ে ভুক্তভোগী মোঃ মাসুদ রানা (৪২)-এর ওপর চড়াও হয়। ১ নং আসামি রেজাউল করিমের হুকুমে ২ নং আসামি মেহেদী হাসান রাজিব তার হাতে থাকা ধারালো হাতকুড়াল দিয়ে মাসুদ রানার মাথার পেছনে ডান পাশে সজোরে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। মাসুদ রানা মাটিতে পড়ে গেলে রাজিব তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আবারও হাতকুড়াল দিয়ে কপালে কোপ দেয়। এরপর ৩ নং আসামি শফিউল তার হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া দিয়ে মাসুদ রানার নাকের ওপর কোপ মেরে মারাত্মক জখম করে। এছাড়া রামদা ও হাতকুড়ালের উল্টো পিঠ দিয়ে পিটিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে থেঁতলে দেওয়া হয়।
এসময় মাসুদ রানার চিৎকার শুনে তার ছোট ভাই মোঃ মারফত আলী (৪০) বাঁচাতে এগিয়ে এলে আসামিরা তার ওপরও চড়াও হয়। ১ নং আসামি রেজাউল করিম তার হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে মারফত আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কপালে সজোরে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় ২ নং আসামি রাজিব পকেটমার করে মারফত আলীর গেঞ্জির বুক পকেট থেকে নগদ ১৫,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন (সাক্ষী মোঃ আব্দুল হামিদ, মোঃ মজিবর রহমান, মোঃ মানিক আলী, মোঃ আরজেত হোসেন সহ অন্যান্যরা) এগিয়ে এলে আসামিরা খুন জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাসুদ রানা ও মারফত আলীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের চিকিৎসা ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী মোছাঃ মৌসুমী আক্তার।
এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দৌলতপুর থানা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
