মেহেরপুরের গাংনীতে বাংলাদেশ প্রাক্তন সৈনিক সংস্থার গাংনী উপজেলা শাখার অফিসের সম্পত্তি দখল, আর্থিক অনিয়ম ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় গাংনী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়িয়ায় বাংলাদেশ প্রাক্তন সৈনিক সংস্থার গাংনী উপজেলা শাখার নিজস্ব কার্যালয়ের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রাক্তন সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সৈনিক সংস্থার সদস্য বহুলুল আজিজ হেলু। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গাংনী সৈনিক সংস্থার সদস্য না হয়েও সুলেরী আলভী গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জিয়াদ আলী, জিল্লুর, কাজিম, সুবহান, মালিক, কুদ্দুস ও আতর আলীসহ কয়েকজনকে নিয়ে সংস্থার গাংনী উপজেলা কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। পরে তারা অফিসে তালা লাগিয়ে দেন এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ জন জ্যেষ্ঠ সেনা সদস্যকে ‘ভুয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বহুলুল আজিজ হেলু আরও অভিযোগ করেন, সুলেরী আলভী ও জিয়াদ আলী নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জ্যেষ্ঠ সৈনিকদের আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মো. মকবুল হোসেনের সময়ে দেওয়া প্রায় ২৪ হাজার টাকা অনুদান সোবহান, কাজিম, জিল্লুর ও জিয়াদসহ কয়েকজন ভুয়া প্রকল্প ও ট্রাভেল বিল দেখিয়ে ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া জিল্লুরের কাছে সংস্থার সঞ্চয়ের প্রায় ৩ লাখ টাকা জমা থাকার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত ওই অর্থের কোনো হিসাব সদস্যদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সংস্থার হেড অফিস থেকে আসা সরকারি অনুদানের ৮৫ হাজার টাকারও কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। ওই অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সৈনিক কাজিম ও সৈনিক জিল্লুর গোপনে কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় একটি কথিত কমিটি গঠন করে সংস্থার দলিলিক সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে কাজিমের স্ত্রী মোছা. সেলিনা খাতুনের নামে মাত্র ৯৪ হাজার টাকায় রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জালিয়াতি, অনিয়ম ও ভূমিদস্যুতার সঙ্গে কাজিম জড়িত। বিষয়টি বাংলাদেশ প্রাক্তন সৈনিক সংস্থার ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় হেড অফিসের নজরে এলে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘটনাটিকে সংস্থার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে জিয়াদ আলী ও কাজিমকে সংস্থা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংস্থার অর্থ ও মালামাল উদ্ধারের দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার আসবাবপত্রসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ভুয়া পরিচয়দানকারী, সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান প্রাক্তন সৈনিকরা।
বক্তারা জানান, বাংলাদেশ প্রাক্তন সৈনিক সংস্থার গাংনী উপজেলা শাখার অন্তর্ভুক্ত মোট ১২৫ জন সদস্যের উপস্থিতিতে মাসিক সভা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
