মহাসড়কের ফোর লেন কাজের চিত্র ধারণকালে বাধা ও মারধরের অভিযোগ; সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তের দাবি। ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ঢাকা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ কাজের সার্বিক চিত্র ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসমাইল হোসেন নামে এক সাংবাদিক হামলা ও ‘মব জাস্টিস’-এর শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর দলবদ্ধ হামলা ও হেনস্তার অভিযোগে সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি, বাস্তব পরিস্থিতি, জনভোগান্তি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাঁকে দলবদ্ধভাবে মারধর ও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সংবাদ সংগ্রহের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের বাধা ও হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুতর হুমকি। কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের অভিযোগ, আপত্তি কিংবা বিরোধ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে দলবদ্ধভাবে একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত সংগ্রহ করা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা। পাশাপাশি কর্মস্থলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা, হেনস্তা কিংবা সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
