দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলায় রক্তাক্ত প্রধান শিক্ষক, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন; থানায় মামলা। প্রতীকী ছবি
ভোলার চরফ্যাশনে নুরাবাদ ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন, তাঁর সহযোগী সিফাতসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুলারহাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত প্রধান শিক্ষক বর্তমানে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকতার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও বিধিসম্মত শর্ত পূরণ করতে না পারায় সাবেক শিক্ষক মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে আগে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর সকালে নাজিমুদ্দিনের স্ত্রী ও তাঁর সহযোগীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো হলে সেদিন বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এ ঘটনায় গত ৫ অক্টোবর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যালয়ের কাজ শেষে চাচাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান। পথে নুরাবাদ বাজার সড়কে পৌঁছালে সাবেক শিক্ষক নাজিমুদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়, মোটরসাইকেল থামানোর পরপরই লোহার রড ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রধান শিক্ষকের মাথা ও মুখমণ্ডল লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর মাথা ও নাক ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় হামলাকারীরা প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য সঙ্গে থাকা নগদ টাকা এবং জরুরি দাপ্তরিক কাগজপত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় মিজানুর রহমানকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দুলারহাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত হওয়া যাবে।
