শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

থানায় এমপি রুমিন ফারহানা-ওসির বাগবিতণ্ডা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিরাপত্তা না পাওয়া, ঘুষ-দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্যের অভিযোগ এমপির; ‘মব’ ও শেল্টার দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ ওসির। সরাইল থানায় এমপি রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসির বাগবিতণ্ডা (ছবি-সংগৃহীত)

দুর্গাপূজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না পাওয়া, পুলিশের সৌজন্যমূলক আচরণের অভাব এবং ওসির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন স্থানীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার রাতে ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় এমপি ও ওসির মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে থানা প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রুমিন ফারহানা ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, মাটি কাটা, বালু ও ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়া এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শেল্টার দেওয়া এবং লোকজন নিয়ে থানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাল্টা অভিযোগ করেন।

‘নিরাপত্তা চেয়েছি, ওসি ফোনও ধরেন না’

থানায় ওসির কক্ষে বসে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কতবার রিকোয়েস্ট করেছি যে, নিরাপত্তা দেওয়া হোক। আমাকে বিজয়নগরে নিরাপত্তা দিয়েছে, আশুগঞ্জে নিরাপত্তা দিয়েছে। আইনে আছে যে, নির্বাচিত এমপি নিরাপত্তা চাইলে লোকাল এরিয়াতে নিরাপত্তা দিতে হবে। গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের সময় একজন এমপি গুলিবিদ্ধ এবং মারা যাওয়ার পর এই আইনটা হয়। উনি ফোনই ধরেন না এবং বলেন, উনি নির্বাচিত এমপি, উনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে।

তিনি বলেন, এজন্যই দেখতেছেন, বাইরে আরও ৫-১০ হাজার মানুষ আছে। ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে, তাই না? তাই মানুষ আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে।

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য বলেন, ‘উনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা থেকে পয়সা নেওয়া, বালু, ইটের ভাটার পয়সা নেওয়া ইত্যাদি বিস্তর অভিযোগ। কোনো ঘটনা ঘটলে আপনারা জানেন যে, এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ। দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয়, তখন উনারা ধীরেসুস্থে যান। এই বিষয়গুলো আজকে জানতে এসেছিলাম। উনি যে ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে আসলে করা যায় না।

‘এক-দেড়শ লোক নিয়ে থানায় হৈচৈ করেছেন’

সংসদ সদস্যের অভিযোগের জবাবে সরাইল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, রুমিন ফারহানা এক-দেড়শ লোক নিয়ে থানায় এসে হৈচৈ করেন এবং তাঁর অফিসকক্ষে কয়েকশ লোক ঢুকে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেন।

ওসি বলেন, উনি কিছু লোককে শিখিয়ে এনেছেন যে, আমার বিরুদ্ধে আজেবাজে কথাবার্তা বলবে, যা আমি প্র্যাকটিস করি না। উনি বলেছেন, আমি নাকি কোনো এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে ভাত খেয়ে আসছি। আমি কখনও কারও দাওয়াতেই যাই না। বিয়ের দাওয়াতেও যাই না। রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম ছাড়া কোনো খাবারে যোগ দিই না। শুধু সরকারি প্রোগ্রাম যেখানে ইউএনও থাকেন, ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন, তখন আমি যাই।

তিনি আরও বলেন, উনি লোক সাজিয়ে নিয়ে এসেছেন। সেই লোক বলেন, আমাকে নাকি মামলার আসামি ছাড়ার ব্যাপারে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন। লোকটাকে আমি কোনোদিন দেখেছি বলে আমার মনে পড়ে না। আসামিরা আসে, অফিসাররা ধরে হাজতে পাঠায়। আবার কোর্টে চলে যায়। আমার সঙ্গে কোনো প্রয়োজনই হয় না। সেই লোক নাকি আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। এটা তো উনার শেখানো বিষয়।

ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার

ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘উনি বলেছেন যে, ব্রিকফিল্ড থেকে টাকা নিই। ব্রিকফিল্ড এখানে কই? হাওড় অঞ্চল, সবগুলো পানির নিচে। উনি এই অভিযোগটা কোত্থেকে আনলেন? আমি এতে খুব দুঃখ পেয়েছি। পূজার মধ্যে আমাদের কঠিন প্রোগ্রাম ছিল। আমরা সামগ্রিকভাবে পুরো থানা এলাকার পূজামণ্ডপকে নিরাপদে রেখেছি।

ওসি আরও বলেন, ‘উনি বলেছেন রেকর্ড আছে। উনি তো রেকর্ড দেখাইতে পারেন নাই। আমি নিরাপত্তা দিই, অস্বীকার করবো কেন? এই থানা এলাকায় প্রত্যেকটা পূজামণ্ডপে আমরা সামগ্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি।’

সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘এখন উনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় গানম্যান চাইতে হবে, সেটা আলাদা বিষয়। উনি এসপির কাছে চাইবেন, গানম্যান ইস্যু হলে গানম্যান থাকবে। কিন্তু একটা টিম উনার সঙ্গে ওইভাবে এনগেজ রাখা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

এমপির বিরুদ্ধে ‘মব’ ও শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ ওসির

থানায় সংসদ সদস্যের উপস্থিতি এবং তাঁর অনুসারীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেন ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, এর মধ্যে উনি লোকজন নিয়ে, উনার অনুসারীদের নিয়ে আমার কক্ষে এসে অবরুদ্ধ করেছেন, মব করেছেন। থানার বাইরে মিছিল করেছেন। আমি জানি না, এখানে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো লোকজন ছিল কিনা। কারণ তিনি ওদের না ধরার জন্য আমাকে সবসময় প্রেশারাইজড করেন।

ওসি আরও বলেন, এই যে আজকে যেগুলো আসছে, আমি চিনিও না ওদের সবাইকে। হয়তো পরবর্তীতে জানা যাবে। উনারা থানার মধ্যে খুব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। আমি নোট ডাউন করে রেখেছি।

এ সময় ওসির কক্ষে রুমিন ফারহানার সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর তর্কে জড়ানোর ঘটনা ঘটে। সমর্থকদের ভিডিও ধারণ করার জন্যও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান ওসি।

থানা প্রাঙ্গণে সমর্থকদের স্লোগান

প্রসঙ্গত, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা থানায় অবস্থান করার সময় তাঁর কয়েকশ সমর্থক ও নেতাকর্মী থানা প্রাঙ্গণের বাইরে জড়ো হন। তাঁরা রুমিন ফারহানার পক্ষে এবং ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় থানা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় সংসদ সদস্য ও ওসির পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।