হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুকে নেবুলাইজার দেওয়া হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতাল থেকে তোলা ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হাম পরিস্থিতি। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২ শিশুর মৃত্যু সরাসরি হামে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ, আর বাকি ৯ শিশু মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে। তাদের মধ্যে ৮৫ জনের মৃত্যু হামে হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর ৪১৪ শিশু প্রাণ হারিয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব উদ্বেগজনক তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৫৪০ জনে।
এছাড়া একই সময়ে নতুন করে ৫৪ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৩২৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে চাপ। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ শিশু। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৩ হাজার ৪১১ জন।
ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসাই পারে শিশুদের এই প্রাণঘাতী ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে।
