বৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুই বছরের আগে বাড়ি ভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসি

স্টাফ রিপোর্টার
জানুয়ারি ২১, ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দুপুরে ডিএনসিসির নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশিকার কথা জানান ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১–এর আলোকে ১৬ দফার এ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই দুই বছরের আগে বাড়ি ভাড়া বাড়ানো যাবে না। পাশাপাশি ভাড়া বৃদ্ধির সময়কাল জুন-জুলাই মাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

মোহাম্মদ এজাজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে ভাড়াটিয়ারা নানা অনিয়ম ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভাড়া ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনো বাড়ির ভাড়া একবার নির্ধারণ হলে তা পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে। দুই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা যাবে। তবে বার্ষিক ভাড়া বৃদ্ধির হার কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এছাড়া বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে তিন মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকারের বিষয়ে নির্দেশিকায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রতিটি ভাড়াটিয়াকে বাড়ির ছাদ এবং মূল ফটকের চাবি শর্তসাপেক্ষে প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময় বাড়িতে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা আগে ভাড়াটিয়াকে জানাতে হবে এবং মতামত গ্রহণ করতে হবে।

চুক্তি ও রসিদের বিষয়ে নির্দেশিকায় বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে অবশ্যই লিখিত ভাড়াচুক্তি থাকতে হবে। ভাড়াটিয়া প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করবেন এবং এর বিপরীতে বাড়িওয়ালা স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রসিদ দিতে বাধ্য থাকবেন। পাশাপাশি বাড়ির মালিককে ঘর বসবাসের উপযোগী রাখতে হবে এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহের নিরবচ্ছিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ভাড়াটিয়া নিয়মিত ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে তাকে সরাসরি উচ্ছেদ করা যাবে না। প্রথমে মৌখিক সতর্কতা এবং পরবর্তীতে দুই মাসের লিখিত নোটিশ দিতে হবে। আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে চুক্তি বাতিলের জন্য উভয় পক্ষকে কমপক্ষে দুই মাসের নোটিশ দিতে হবে।

ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সমাধান সম্ভব না হলে সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।

ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্দেশিকা বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বাড়াতে ভবিষ্যতে জোনভিত্তিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।