কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে ‘ভুল চিকিৎসা’ ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী মোঃ কাউসার, পিতা- মহরম মণ্ডল, জানান, শনিবার সকালে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে ডিউটিরত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ মিজান তার মাথায় সেলাই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সঠিকভাবে সেলাই না করে তার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী কাউসারের ভাষ্য, মাথায় বড় ধরনের আঘাত নিয়ে হাসপাতালে গেলে ডাক্তার আমাকে দ্রুত সেলাই করে বাড়ি যেতে বলেন। পরে ওষুধ খেলেই দ্রুত সুস্থ হয়ে যাব বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু চিকিৎসা সঠিকভাবে হয়নি, উল্টো আমার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ডাঃ মোঃ মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার না করে বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায় বাইরে থেকে একজনকে দিয়ে সেলাই করানো হয়েছে এবং নেওয়া টাকা ওই ব্যক্তিকেই দেওয়া হয়েছে।
তবে এখানেই উঠেছে নতুন প্রশ্ন—যদি সেলাই করা ব্যক্তি হাসপাতালের কোনো কর্মচারী না হন, তাহলে সরকারি হাসপাতালের ভেতরে বহিরাগতকে দিয়ে চিকিৎসাসেবা কেন দেওয়া হলো? আর একটি সাধারণ সেলাইয়ের জন্য রোগীদের কি আলাদাভাবে টাকা দিতে হবে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের যদি অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয় এবং বহিরাগতদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়, তাহলে জনসাধারণের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার কোথায় দাঁড়ায়?
টাকা নেওয়ার বিষয়টি চিকিৎসক নিজেই স্বীকার করায় ঘটনাটি আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বহিরাগতকে দিয়ে সেলাই ও ড্রেসিং করানোর বিষয়টিও এখন নানা প্রশ্নের মুখে। পুরো ঘটনাটি দৌলতপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
