রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পঞ্চগড়ে তিন সড়কের ইজারায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সরকারি কোষাগারে ৪০ হাজার টাকা, ইজারা কয়েক লাখে। চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলালের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। ফাইল ছবি

পঞ্চগড়ে গ্রামীণ তিনটি সড়কে পাথর-বালুবাহী যানবাহন থেকে টোল আদায় এবং সড়ক ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনটি সড়ক থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা টোল আদায় করা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব হিসাবে জমা দেখানো হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, প্রতিটি সড়ক কয়েক লাখ টাকায় ইজারা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় প্রকৃত ইজারামূল্য, টোল আদায়ের পরিমাণ এবং সরকারি রাজস্ব জমার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের সত্যতা যাচাই, সরকারি রাজস্বের হিসাব প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধাক্কামারা ইউনিয়নের আওতাধীন মিরগড়, লাঠুয়াপাড়া ও আহমেদ নগর এলাকার তিনটি সড়কে নিয়মিত পাথর-বালুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হয়। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাক থেকে আনুমানিক ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে তিনটি সড়কের এক বছরের ইজারামূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা। অথচ চেয়ারম্যান গোপনে প্রতিটি সড়ক ২ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ইজারা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ইজারা বাবদ প্রকৃত আদায় করা অর্থ এবং পরিষদের রাজস্ব হিসাবে জমা দেওয়া অর্থের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে প্রতিবছর ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।

লাঠুয়াপাড়া এলাকার সড়কের টোল আদায়ের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন বলেন, তাঁরা কয়েকজন মিলে শেয়ারে এই ইজারা নিয়েছেন। তবে ঠিক কত টাকায় ইজারা নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

অন্যদিকে, টোল আদায়কারী আকতারুল জানান, খরচসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকায় সড়কটি ইজারা নেওয়ার কথা রয়েছে।

ইজারাদারের বক্তব্যে নির্দিষ্ট অঙ্কের তথ্য না থাকলেও টোল আদায়কারীর বক্তব্যে সাড়ে ৪ লাখ টাকার কথা উঠে এসেছে। ফলে ইজারা চুক্তি, প্রকৃত দর এবং অর্থ পরিশোধের নথি যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যের পর ইজারা বাবদ প্রকৃত আয়, পরিষদের রাজস্ব হিসাবে জমা দেওয়া অর্থ এবং অন্যান্য খরচের খাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন যাচাই জরুরি।

তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ সড়কে পাথর-বালুবাহী যানবাহন চলাচল থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ সংগ্রহ হলেও সরকারি রাজস্ব হিসাবে তার যথাযথ প্রতিফলন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, তিনটি সড়কের ইজারা-সংক্রান্ত চুক্তিপত্র, দরপত্র বা খোলা ডাকের নথি, টোল আদায়ের হিসাব এবং পরিষদের ব্যাংক জমার তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ইজারার প্রকৃত মূল্য, আদায় করা টাকার পরিমাণ এবং সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের হিসাব স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এতে সরকারি রাজস্বের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।