মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে ‘পিচ্চি রাজাকে’ বোনের প্রাইভেটকারে তুলে দেয় পুলিশ

গাজীপুর প্রতিনিধি
অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাইমাইলে নয়, তাঁতীবাজার থেকেই পলায়ন—সংবাদ সম্মেলনে জিএমপি কমিশনার। পিচ্চি রাজা। ফাইল ছবি

রাজধানীর শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে পালাননি। তাঁকে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার থেকেই প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এক এসআই তাঁকে আগে থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে তুলে দেন। ওই গাড়িতে ছিলেন পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাসহ কয়েকজন।

দীর্ঘ তদন্তে পিচ্চি রাজার পলায়নের এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সোমবার গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২৯ আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাঁদের আবার কাশিমপুরে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রিজন ভ্যানটি থামে।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে দায়িত্বে থাকা স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নিয়ে তালা খোলেন। এরপর পিচ্চি রাজা ও খাইরুল বাশার নামে দুই হাজতিকে ভ্যান থেকে নামানো হয়। খাইরুল বাশারকে চালকের পাশে ভ্যানের সামনের অংশে বসানো হলেও পিচ্চি রাজা আর ভ্যানে ওঠেননি।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, তাঁতীবাজারেই পিচ্চি রাজাকে একটি অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকারে তুলে দেওয়া হয়। গাড়িতে আগে থেকেই ছিলেন তাঁর বোন তাসলিমাসহ কয়েকজন। তাঁকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার সময় এসআই প্রবীর সাদাপোশাকে ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

এরপর প্রিজন ভ্যানটি বাকি আসামিদের নিয়ে কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, পিচ্চি রাজাকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার পর এসআই প্রবীর গাজীপুর মহানগরীর বাইমাইল এলাকায় নাওজোড় হাইওয়ে থানার সামনে এসে আবার প্রিজন ভ্যানে যুক্ত হন।

সাজানো হয় ‘বাথরুমে গিয়ে পালানোর’ গল্প

কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছানোর পর পিচ্চি রাজার পলায়ন নিয়ে ভিন্ন একটি ঘটনা সাজানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বলা হয়, বাইমাইল বা নাওজোড় এলাকায় পৌঁছানোর পর বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে প্রিজন ভ্যান থেকে নামেন পিচ্চি রাজা। পরে সুযোগ বুঝে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।

এতদিন পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকেই পিচ্চি রাজার পলায়নের মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছিল। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র—বাইমাইলে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁতীবাজার থেকেই প্রাইভেটকারে করে চলে যান তিনি।

পলায়নে সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

পুলিশের তদন্তে পিচ্চি রাজার পলায়নে সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্য ছাড়া বাকি তিন কনস্টেবলকে নজরদারিতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ভিন্ন তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মামলা

পিচ্চি রাজার পলায়নের পর প্রকৃত ঘটনা গোপন করে ভিন্ন তথ্য দেওয়ার অভিযোগে কোনাবাড়ী থানায় দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় মামলা হয়। পরে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় জিএমপির ডিবি দক্ষিণ বিভাগকে।

তদন্তে প্রিজন ভ্যানের গতিপথ, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা এবং পিচ্চি রাজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, এমনকি সে পুলিশ সদস্য হলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আট দিনেও অধরা ‘পিচ্চি রাজা’

তদন্তে পিচ্চি রাজার পলায়নের প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে এলেও এখনও অধরা তিনি। ঘটনার আট দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

তাঁকে এবং পলায়নে সহযোগিতাকারী অন্যদের গ্রেপ্তারে ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে ডিবি পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান কমিশনার।

রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা ওরফে বাদশা মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ব্লক-এ এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত ৩০টি মামলা রয়েছে।

চলতি বছরের ১৯ মে নেপাল থেকে দেশে ফেরার পথে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাঁকে, তাঁর স্ত্রী ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।