রানার্সআপ দশানি আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, শ্রেষ্ঠ বক্তা উম্মে সালমা সামিয়া। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তি, তথ্য ও বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থাপনার জমজমাট লড়াইয়ে বাগেরহাটে বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবের জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাগেরহাট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। রানার্সআপ হয়েছে দশানি আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। আর যুক্তিনির্ভর বক্তব্য ও দক্ষ উপস্থাপনায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের দলনেতা উম্মে সালমা সামিয়া।
বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের যদুনাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিতার্কিকরা এতে অংশ নিয়ে যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরেন।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল, আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমলাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যদুনাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি দল।
দিনভর প্রতিযোগিতায় বিতার্কিকদের যুক্তি, পাল্টা যুক্তি ও তথ্যনির্ভর বক্তব্যে মুখর হয়ে ওঠে অডিটোরিয়াম। প্রতিটি পর্বেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শেষ পর্যন্ত যুক্তির লড়াইয়ে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়নের শিরোপা অর্জন করে বাগেরহাট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। রানার্সআপ হয় দশানি আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।
বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. সাদেকুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ মুখার্জী রবীন্দ্রনাথ, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক শেখ মুজিবুর রহমান এবং ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাগেরহাট জেলা শাখার সহসভাপতি এসকেএ হাসিব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বীথি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যদুনাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ঝিমি মন্ডল, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ বাগেরহাটের সভাপতি সেখ সাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ তানজীর হোসেন, ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাগেরহাটের সাধারণ সম্পাদক আবিদা সুলতানাসহ সুহৃদ সমাবেশের সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা বলেন, মুখস্থবিদ্যার গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বিজ্ঞান বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিতর্ক শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি তরুণ প্রজন্মকে যুক্তিনির্ভর চিন্তায় অভ্যস্ত করার পাশাপাশি কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করে।
