মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক প্রতিবেশী। নিহত বাবা গোলাপ হোসেন ও তার মেয়ে তোয়াবা আক্তার
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে বাড়ি ফেরার পথে মুখোশধারীদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছে পাঁচ বছরের শিশু তোয়াবা আক্তার। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে তাকে। একই হামলায় গুরুতর আহত তার বাবা গোলাপ হোসেনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রামকৃষ্ণদী এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ইটভাটার পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার বাবা গোলাপ হোসেন।
নিহত তোয়াবা আক্তার ও তার বাবা গোলাপ হোসেন উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগে প্রতিবেশী সোহরাব হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
বাড়ি ফেরার পথেই হামলা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে গোলাপ হোসেন তার পাঁচ বছরের মেয়ে তোয়াবাকে নিয়ে রামকৃষ্ণদী এলাকায় একটি ইটভাটায় কর্মরত তার বাবা জয়নাল মিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তারা মুখোশধারীদের হামলার শিকার হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গোলাপ হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এরপর ছোট্ট তোয়াবাকেও কুপিয়ে হত্যা করে ইটভাটার পাশে একটি পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে রেখে যায় তারা। গোলাপ হোসেনকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরে গুরুতর আহত গোলাপ হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার আবারও তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামের মোল্লা ব্রিকসের পাশে একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তোয়াবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ
নিহত শিশুটির নানি তাসলিমা বলেন, প্রতিবেশী সোহরাবের সঙ্গে তার ছেলের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
গোলাপ হোসেনের মা হাসু বেগম বলেন, প্রতিবেশী সোহরাবের পরিবারের সঙ্গে তার ছেলের জমিজমা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। সোহরাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশের বক্তব্য
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাপ হোসেন জানিয়েছিলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সোহরাবের পাঠানো মুখোশধারী ব্যক্তিরা তার ও তার মেয়ের ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় সোহরাবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একটি জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পাঁচ বছরের শিশুসহ বাবা-মেয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
