শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবার লাইসেন্সে ৭ কাজ বাগানোর অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহম্মেদ ও মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে তদন্তে দুদক

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহম্মেদের বিরুদ্ধে তাঁর বাবা মামুনুর রশীদের ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে একের পর এক সরকারি কাজ বাগিয়ে নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নে পাউবোর একটি সেচ প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করেছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিন সদস্যের দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের সেচ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। এ সময় প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন কর্মকর্তারা। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পের কাজ, বাস্তব অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

দুদকের নারায়ণগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ জানান, দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো তিন সদস্যের এনফোর্সমেন্ট টিম রূপগঞ্জের দাউদপুরে সেচ প্রকল্প পরিদর্শন করেছে। এর আগে দুদকের কর্মকর্তারা রাজধানীর মতিঝিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেন।

দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহম্মেদের পিতা মামুনুর রশীদের নামে এই জোনে অন্তত সাতটি কাজ হয়েছে। এসব কাজের বিপরীতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলেও নথিপত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। একই পরিবারের একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর পিতার ঠিকাদারি কার্যক্রম চলমান থাকাকে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাঁদের কাজগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। পরবর্তীতে বিস্তারিত প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগের প্রকৃতি যাচাইয়ে শুধু নথিপত্র পর্যালোচনার মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না; প্রকল্পের বাস্তব চিত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাজের অনুমোদন, দরপত্র প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা, বিল উত্তোলন, কাজের গুণগত মান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্বাধীন এলাকায় তাঁর নিকটাত্মীয়ের ঠিকাদারি কার্যক্রম থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তদারকি কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ জন্য দরপত্র ও প্রকল্প বাস্তবায়নের নথি, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রকৃত ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।

নথি সূত্রে জানা গেছে, শুভ আহম্মেদ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রূপগঞ্জের সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমেও তাঁর দায়িত্ব পালনের তথ্য নথিপত্রে রয়েছে। ২০২৫ সালে রূপগঞ্জের অগ্রণী সেচ প্রকল্পের পানি নিষ্কাশন খাল দখলের অভিযোগে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়ার বিষয়েও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের জুনে রূপগঞ্জের বরপা এলাকায় অবৈধ দখলে থাকা খাল উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে তাঁর তত্ত্বাবধানের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

দুদকের তদন্তে এবার ওই পানি উন্নয়ন বোর্ডেরই বিভিন্ন প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলীর বাবা মামুনুর রশীদের নামে ঠিকাদারি কাজের তথ্য সামনে এসেছে। ফলে সাতটি কাজ কীভাবে অনুমোদিত হয়েছে, কোন প্রক্রিয়ায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, কাজগুলোর বাস্তব অগ্রগতি কতটুকু, উত্তোলিত অর্থের বিপরীতে কাজের পরিমাণ ও মান যথাযথ ছিল কি না এবং এসব কাজে নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহম্মেদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে।

পরিদর্শনকালে দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা, উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহম্মেদ কিংবা তাঁর বাবা মামুনুর রশীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের যথার্থতা যাচাই করে দুদকের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।