ছবি-খালিজ টাইমস
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাসে যখন পুরো স্টেডিয়াম মুখর, তখন সবার নজর কাড়েন দলের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠার আগে মাঠে একা হাঁটু গেড়ে সেজদায় লিপ্ত হন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই মুহূর্তটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে স্পেন।
শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা যায়, ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল মাঠের এক পাশে নীরবে সেজদা করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ছিল কৃতজ্ঞতার সেজদা, যা ইসলামে কোনো বড় নিয়ামত বা সুখবর লাভের পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি আমল। এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের পর ইয়ামালকে এমন সেজদা করতে দেখা গেছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামার আগে মোনাজাত করেন লামিন ইয়ামাল। ছবি-বিবিসি বাংলা
স্টেডিয়ামে যখন সতীর্থরা উচ্ছ্বাসে মেতে ছিলেন, তখন ইয়ামালের এই শান্ত ও বিনয়ী মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও বিনয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উদযাপনের মধ্যেও আরেকটি আবেগঘন মুহূর্ত উপহার দেন বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা। ট্রফি হাতে নেওয়ার আগে তিনি এগিয়ে যান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছে। দুজন একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এবং কিছুক্ষণ কথা বলেন। সেই ছবি ও ভিডিও দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়। অনেক সমর্থক এটিকে ফুটবলের দুই প্রজন্মের প্রতীকী ‘ব্যাটন হস্তান্তরের’ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

এই আলিঙ্গনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরোনো এক স্মৃতিও। প্রায় দুই দশক আগে ইউনিসেফের একটি ফটোশুটে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলেন মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই ছবির প্রসঙ্গ টেনে মেসি ঘটনাটিকে ‘অবিশ্বাস্য কাকতালীয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ফিফাও সম্প্রতি সেই ছবির পেছনের গল্প নতুন করে তুলে ধরে।
ম্যাচ শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আবেগঘন সময় কাটান ইয়ামাল। বিশেষ করে তাঁর তিন বছর বয়সী ছোট ভাইকে জড়িয়ে ধরার দৃশ্যও ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ছোট ভাইয়ের উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছিল।
বিশ্বকাপজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠ ও মাঠের বাইরের আচরণ দিয়েও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন লামিন ইয়ামাল। ফুটবল বিশ্বের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হিসেবে নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করলেন এই স্প্যানিশ তরুণ। সূত্র-খালিজ টাইমস
