অনিয়ম দূর্নীতির বিস্তর অভিযোগ নিয়েও বহাল তবিয়তে মাধবপুরের শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল ইসালম। ছবি সংগৃহীত
অনিয়ম ও দূর্নীতি করে কর্মস্থলে বহাল থাকায় সচেতন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে প্রশ্ন ওঠেছে ওই কর্মকর্তার খুঁটির জোর কোথায়?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে মোঃ জাকিরুল ইসলাম মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে অনিয়ম, দূর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের আখড়ায় পরিনত করেছে । নিজ এলাকায় নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে গড়েছে সম্পদ।
তাদের দূর্নীতির বিরুদ্ধে কোন শিক্ষক কর্মচারী মুখ খোলে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। প্রতিবাদ করতে গেলেই বানোয়াট অভিযোগ তুলে শোকজ করে শিক্ষক কর্মচারীদের হয়রানী করারও খবর পাওয়া গেছে।
ওই কর্মকর্তার বিভিন্ন প্রকল্পে দূর্নীতি করে কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে গত মাসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
উপজেলার আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল মিয়া এ আবেদন করেন।
গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে দাখিল করা ওই আবেদনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র মেরামত, স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষক মোটিভেশন, প্রশিক্ষণ, ইন্টারনেট বিল, যাতায়াত ভাতা, ভবন নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দ পাওয়া উপজেলার ৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘নৈশ প্রহরী নবায়ন’ কর্মসূচির আওতায় ১৪৯টি বিদ্যালয়ের প্রতিটির কাছ থেকেও ১০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে। শিক্ষক মোটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া বই বিক্রির অর্থ, ইন্টারনেট বিল, ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অনিয়মের কারণে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগ গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনটির অনুলিপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্যের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো অনিয়মের সঙ্গে আমি জড়িত নই।
