লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও অতি জোয়ারে বাড়ছে দুর্ভোগ; তজুমদ্দিনে বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপরে নদীর পানি। ফাইল ছবি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দ্বীপ জেলা ভোলাজুড়ে বিরাজ করছে বৈরী আবহাওয়া। টানা বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও অতি জোয়ারের কারণে উত্তাল হয়ে উঠেছে মেঘনা নদী। তজুমদ্দিন পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নৌবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল থাকায় ভোলা-মনপুরা-হাকিমুদ্দিনসহ জেলার পাঁচটি অভ্যন্তরীণ নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকাশ ছিল ঘন মেঘে ঢাকা। থেমে থেমে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি দমকা হাওয়ায় মেঘনা নদীতে ঢেউয়ের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে নদীপথে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নৌবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল থাকায় মনপুরা-হাকিমুদ্দিনসহ ভোলা জেলার পাঁচটি অভ্যন্তরীণ নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর-ঢাকা নৌপথে ফেরি ও যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন নদী এলাকায় জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছেন। নদীতে জেলে নৌকা ও ছোট নৌযানের চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীপথ ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
