রবিবার, ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভুয়া বিপিএড সনদে চাকরি, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
অক্টোবর ৪, ২০২৬ ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রুদ্রাণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে দুদকে তদন্ত ও মামলার আবেদন। ফাইল ফটো

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার রুদ্রাণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মো. লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে ভুয়া ও জাল ‘বিপিএড’ সনদ ব্যবহার করে চাকরি ধরে রাখা এবং সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে করা ওই অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সরকারি অর্থের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলে তা নিরূপণের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষক লিয়াকত আলী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০০৭ সালে উত্তরা ইউনিভার্সিটির ১০ মাস মেয়াদি বিপিএড পাসের একটি জাল সনদ সংগ্রহ করেন। তবে ওই সময় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রেজুলেশন বা ছুটির অনুমোদন ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই ঢাকায় গিয়ে তিনি কীভাবে ওই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

সনদ পাওয়ার আগেই ১০ম গ্রেডের বেতন-ভাতা!

অভিযোগে আরও বলা হয়, লিয়াকত আলী ২০০৫ সালে বিপিএড সম্পন্ন না করেই ১০ম গ্রেডের বেতন-ভাতা গ্রহণ শুরু করেন, যা নিয়মবহির্ভূত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিপিএড সনদ পাওয়ার অন্তত দুই বছর আগে তিনি কীভাবে ১০ম গ্রেডের সরকারি সুবিধা পেয়েছেন—এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসে ‘Fake Certificate’ হিসেবে চিহ্নিত

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, এর আগে উচ্চতর স্কেলের জন্য আবেদন করলে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর দিনাজপুরের জেলা শিক্ষা অফিসার লিয়াকত আলীর বিপিএড সনদকে ‘Fake Certificate’ বা জাল সনদ হিসেবে চিহ্নিত করে আবেদনটি বাতিল করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সিদ্ধান্তের পরও সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুনরায় উচ্চতর স্কেলের জন্য আবেদন করেছেন। বিষয়টি যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনীহার অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, লিয়াকত আলীর আচরণ ও পাঠদানের পদ্ধতি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। পাঠদানে অনীহা ও দক্ষতার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী তার ক্লাস করতে আগ্রহী নন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তার কথিত খামখেয়ালি আচরণের কারণে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীরা বলছেন, জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে বহাল থাকা এবং সরকারি কোষাগার থেকে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ সত্য হলে তা রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির শামিল। তাই অভিযোগটির সুনির্দিষ্ট, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, দুদকের উপ-পরিচালক (দিনাজপুর/রংপুর), জেলা শিক্ষা অফিসার, মহাপরিচালক এনএসআই এবং ফুলবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার, এরপর ‘নিউজ না করার’ অনুরোধ

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে শিক্ষক মো. লিয়াকত আলী প্রথমে প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তবে পরে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আপনি নিউজটা পাবলিশ করবেন না। আমার ভাগ্নে গুলশানে চাকরি করেন। আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

ঘটনা মিথ্যা হলে ভাগ্নের মাধ্যমে যোগাযোগের প্রয়োজন কেন—এমন প্রশ্ন করা হলে লিয়াকত আলী কোনো উত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, বিপিএড সনদ, প্রশিক্ষণকালীন ছুটি ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন, বেতন-ভাতার রেকর্ড এবং উচ্চতর স্কেলের আবেদনসংক্রান্ত নথি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।