মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে হাতে অস্ত্র নিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী শহরে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি। একপর্যায়ে থানায় গিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সুলভ মালিথা ছিলেন। সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
বাপ্পির দাবি, তাকে হত্যার হুমিদাতাদের পাশাপাশি মাদক ও সুদের কারবারিদের ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ জানাতেই তিনি মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছেন।
এদিকে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে বাপ্পিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ছাত্রদল, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ বাপ্পিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা থানার সামনে অবস্থান নেন।
বাপ্পির ভাষ্য, ঈশ্বরদীর কতিপয় সন্ত্রাসী তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং হুমকিদাতাদের ওপেন চ্যালেঞ্জ’ জানিয়ে শহরের কলেজ রোডে নিজ বাড়ি থেকে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে হাতে অস্ত্র নিয়ে জিরো পয়েন্ট রেলগেটে যান তিনি। সেখান থেকে সন্ধ্যায় থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
থানায় গিয়ে বাপ্পি বলেন, আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, এ কারণে আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ দিতে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমেছি। থানায় এসেছি।
বাপ্পির থানায় থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা একজোট হয়ে কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে থানার সামনে অবস্থান নেন। তারা বাপ্পিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, জুবায়ের বাপ্পি প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাকে হত্যার জন্য বকুলের মোড় থেকে রেলগেটে এসে আমাকে গালাগালি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তাঁকে গ্রেপ্তার ও তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত জুবায়ের বাপ্পিকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অস্ত্র প্রদর্শন করে কাউকে হুমকি দিলে, অস্ত্রের অপব্যবহার করলে সে অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করার বিধান রয়েছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জুবায়ের হোসেন বাপ্পি পুলিশের হেফাজতে থানায় ছিলেন। অভিযোগ ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
